১৫ দিনের সেক্সে কি হয়

সেক্স ও রিলেশন


প্রকাশিত:
২১ অক্টোবর ২০২১ ১৬:২৪

আপডেট:
২৯ নভেম্বর ২০২১ ১২:১৬

ধরেন, আপনি কারোর প্রতি যদি সেক্সুয়ালি আকর্ষণ বোধ করেন, এবং কিন্তু সে আপনাকে ইমোশনালি ভ্যালিডেটেড ফীল করায় না ( আবেগিক সমর্থন না পান), সে আপনার জন্য স্বাস্থ্যকর না।
একটা বইয়ে পড়ছিলাম- এমন মানুষ -যে আপনাকে এপ্রিশিয়েট করেনা, কিন্তু আপনি তার প্রতি এট্রাক্টেড -They are 15 days of sex away from an official break up./ ( তাদের সাথে ১৫ দিন সেক্স করলেই ল্যাঠা খতম- ভালো বাংলানুবাদ হলোনা)।
মেয়েদের জন্য, সেক্স তো আমাদের পুরুষতান্ত্রিক কালচারে বিশাল ব্যাপার! তাই যার সাথে ১৫ দিন সেক্স করা হইছে- তার কাছে সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছি, সে আমার সব নিয়ে গেছে, এখন কী হবে?- রক্ষণশীল সংস্কৃতি থেকে আরোপিত -সতীবাদী ভাবনার এই জায়গা থেকে হয়তো অনেকেই ভাববেন- খোদা এটা কেমনে সম্ভব? ১৫ দিন এই দেহ যাকে দিয়েছি, মন তো বাই ডিফল্ট তার, আমি তার চামচা হওয়ার জন্যই জন্মেছি।
তাইলে, এখন স্যাক্রিফাইস / ত্যাগের মূর্তপ্রতিক হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নাও। আর মাঝে মাঝে পাশের বাড়ির ভদ্রলোকের দিকে তাকায়ে মুখ টিপে হেসে খানিকটা ক্লিভেজ বার করে দেখাও, বা দেবরকে বয়টয় বানিয়ে তোমার যৌন অবদমনের, মনস্তাত্ত্বিক ক্রাইসিসের একটা সুরাহা করে, এই জাহান্নামে কোপ করতে থাকো।
এইজন্য মোতাহার হোসেনের এই কথাগুলা পিওর গোল্ড লাগে-
""""'কামকে দমন করতে গিয়ে ধর্ম ও ধর্মসৃষ্ট সমাজ প্রেমকেই দমন করে, প্রেম মরে যায়, কাম গোপনীয়তার আশ্রয় নিয়ে মাথা নিচু করে টিকে থাকে।
প্রেম অন্যায়কারী বলে নয়, "সাহসী" বলেই সমাজের যত ক্রোধ তার উপরে গিয়ে পড়ে। প্রেমিকের আচরণে একটা """চ্যালেঞ্জ""" দেখতে পায় বলে সে তাকে সহ্য করতে পারে না। (সমাজ যেন নীরব ভাষায় বলে ডুবে-ডুবে জল খা না―কে তাতে আপত্তি করে? অত দেখিয়ে দেখিয়ে খাচ্ছিস যে, সাহসের বাড় বেড়েছে বুঝি? আচ্ছা দাঁড়া, তোর বড়াই ভাঙছি।) গোপনে পাপ করে চলো কেউ কিছু বলবে না; না জানলে তো নয়ই, জানলেও না। তুমি যে """""মাথা হেট করে চলেছ""""" তাতেই সকলে খুশি, তোমাকে '"'অবনত শিরেই"'' তারা দেখতে চায়। প্রেমের ""শির উন্নত """ বলেই তার বিপদ―সমাজের যত বজ্রবাণ তার মাথার ওপরেই বর্ষিত হয়।""""""
আসলে বিষয়টা, "প্রান্তিক উপযোগিতা" বা "মার্জিনাল ইউটিলিটির" দিক থেকে ব্যাখ্যা করা যায়। একটু সময় দ্যান সেখানেই যাচ্ছি,( আমার লেকচার দেওয়ার বদ অভ্যাস আছে, খুব সম্ভবতঃ টিচিং প্রফেশনটা আমার জন্য বেস্ট স্যুটেড প্রফেশন)।
মানুষের সমাজ মনোগ্যামির দিকে ঝুঁকে বিবর্তিত হওয়ার প্রধান কারণটা মনস্তাত্ত্বিক, শারীরিক না। কেবল শরীর ধরলে, আমরা নিখাদ পলিগ্যামাস। মানুষ তো কেবল শরীর না। আমাদের আত্ম-সচেতনতা( self awareness , পরিস্থিতি- সচেতনতা( situational awareness) এবং ভবিষ্যতকে আন্দাজ ( প্রেডিক্ট) করার ক্ষমতা আছে।
১) ভবিষ্যৎকে আন্দাজ করার ক্ষেত্রে-ভবিষ্যৎ কে আন্দাজ করে আমরা,জীবনে স্থিতির আর মানসিক,সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার( গ্যান্টারির)মূল্য বুঝি- এইজন্য আমরা বিয়ে করি। জীবনে সব সময়েই ঝুঁকি থাকে কিন্তু ঝুঁকির ( রিস্কের) মাত্রায় বেশ-কম আছে। একটা স্থায়ী সঙ্গী পাওয়ার পর একাকীত্বের যে ঝুঁকি, একজন লোনার সিংগেল আউকাস্টের একাকীত্বের ঝুঁকি সমান না। এবং কমনসেন্স ব্যবহার করেই বলতে পারি যে দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ঝুঁকির সম্ভাবনাটা অনেক বেশী।
২) আত্মসচেতনতার কারণে- জেলাস হই, গিল্টে ভুগি, অহমে আঘাত পাই, মানসিক সমর্থন চাই, নিজের বিকাশ চাই, একাকীত্বকে ভয় পাই, নিজের একটা লেগ্যাসি রেখে যাওয়ার মাধ্যমে অমর হতে চাই - এইজন্য আমরা স্থায়ী সম্পর্ক তৈরী করতে চাই।
৩) সিচুয়েশনের বা পরিস্থিতির সচেতনতার জন্য- আমরা পরিবার, সন্তান, সমাজ ও সংস্কৃতি ( ধর্মকে সংস্কৃতির একটা এলিমেন্ট হিসেবে ধরেছি,তাই আলাদাভাবে উল্লেখ করলাম না) প্রতি এক ধরনের দ্বায়িত্ব অনুভব করি।
যে দ্বায়িত্ব পালন না করলে যে অনেকের বিশাল পাপবোধ, অনায্যতার বোধ হবে- তা না, কেবল "সমাজের মানুষ কী বলবে" সোশ্যালি বয়কট খেয়ে ভালনারেবল পরিস্থিতির শিকার হওয়ার- এই ভীতির কারণে, আবার সমাজ বা ব্যক্তির প্রতি নৈতিক দ্বায়িত্ববোধ এবং ন্যায্যতাবোধ থেকেও মনোগ্যামাস থাকি।
এখন মূল প্রসঙ্গে আসছি, প্রান্তিক উপযোগিতার ব্যাপারটায় । "প্রেম" " ভালোবাসা" এই সম্পর্কটা মনো-দৈহিক। এখানে মনের বা আবেগের একটা পার্ট আছে। শরীরের একটা অংশ আছে। শরীরের পার্টটা আমরা সবাই জানি। শরীর হচ্ছে ভালোবাসার একটা বহিঃপ্রকাশ, ভালোবাসার পুরাটা না।যদিও এইদেশের মানুষভাবে ভালোবাসার পুরোটাই হলো- শরীর। শরীরই ভালোবাসা, ভালোবাসাই শরীর।
শুধু শারীরিকভাবে হিসাব করলে যেহেতু আমরা- পলিগ্যামাস। তাই যে সম্পর্কে কেবল শারীরিক আকর্ষণ আছে, কিন্তু মানসিক শান্তি, অনুপ্রেরণা, উৎসাহ, ভ্যালিডেশন,সার্পোট এসব কিচ্ছু নাই;- সেই সম্পর্ক সেক্সুয়াল টেনশান চলে যাওয়ার সাথে সাথে হয় ভেঙ্গে যাবে, অথবা বিষাক্ত হয়ে যাবে, নয়তো নেতিয়ে পড়বে- অর্থাৎ, সম্পর্কের আত্মিক মৃত্যু হবে-" টিকে থাকবে সমাজের ভয়ে, দ্বায়িত্বের কারণে, কিন্তু কোন প্রাণ থাকবেনা।" কেননা কেবল ও কেবলমাত্র বায়োলজিক্যালি দেখলে, মানুষ পলিগ্যামাস। এর মানে সেক্সুয়াল টেনশান কমে যেতে বাধ্য। এইজন্য ১৫ দিন মানসিক কানেকশান ছাড়া, (15- এটা খুব সম্ভবতঃ হুদাই একটা নাম্বার) সেক্স করলে, এটা মার্জিনাল ইউটিলিটির স্যাচুরেশন পয়েন্টে চলে যায়।
***মার্জিনাল ইউটিলিটির স্যাচুরেশন পয়েন্ট হলো- "যে সময়ে কোন প্রোডাক্ট বার বার ব্যবহার করতে করতে তার মূল্য কমে শূন্য হয়ে যায়। "
আর যদি মানসিক সাপোর্ট এবং মানসিক সংযুক্তির এর ব্যাপারটা যদি দেখি -তাহলে এটা ডেপ্রিশিয়েটিং এসেট না, ( ডেপ্রিশিয়েটিং এসেট-যে সম্পদের মূল্য সময়ের সাথে সাথে কমে) বরং এপ্রিশিয়েটিং এসেট ( যে সম্পদের মূল্য সময়ের সাথে সাথে বাড়ে)। সেক্সুয়াল এট্রাক্টিভনেস - ডেপ্রিশিয়েটিং।
বিভিন্ন রিসার্চে "সুস্থ " দম্পতির দীর্ঘ সুখী দাম্পত্যের কারণ অনুসন্ধান করে পাওয়া গেছে - একজন আরেকজনের সাথে কাইন্ড থাকা, এপ্রিশিয়েট করা ( মূল্যায়ন করা), সাপোর্ট করা ( সমর্থন / অনুপ্রেরণা দেওয়া) আর ভালো কমিউনিকেশন( মানে বিভিন্ন জিনিস নিয়ে কথা বলা, কথা বলে- সমস্যা বা দ্বন্দ্বের সুরাহা করা ), আর কিচ্ছু না।
এই সহজ কাজগুলো করতে আমাদের যে এতটা বেশীই কষ্ট হয়, তাতেই বুঝা- মানুষ স্পিশিজটাই ভালো না।এফোর্টলেসি ( স্বতঃস্ফূর্তভাবে) কাইন্ড ( সদয়), সাপোর্টিভ ( উৎসাহ) আর একটু ভালো লিসেনার ( শ্রোতা) হতে এদের - অহম ধ্বইসা যায়, জান বের হয়ে যায়। অথচ উল্টোটাই প্রত্যাশিত ছিলো।
এরা এফোর্টলেসলি( স্বতঃস্ফূর্তভাবে) ধমকাইতে পারে,বকতে পারে, মারতে পারে, নিয়ন্ত্রণ চর্চা করতে পারে, কিন্তু কিন্তু সদয় আচরণ করতে পারেনা।
এখানে উল্লেখ্য- আমি সুস্থ দাম্পত্যের কথা বলেছি। অসুস্থ দাম্পত্য যেখানে - জামাই বউকে সারাক্ষণ ধমকায়, পেটায়,ক্ষুদ্র ফিল করায়। এবং বউ "লোকে কী বলবে " এর ভয়ে, এবিউসিভ কোন একজন রাক্ষসকে, যে কিনা- নেপোলিয়ন কমপ্লেক্স জনিত হীনমন্যতায় ভোগা থেকে উদ্ভুত আজাইরা সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্স এ ভোগা , সেইসাথে কন্ট্রোল ফ্রীক নার্সিসিস্টিক শভিনিস্ট, উইথ টক্সিক এংগার আউটবার্স্ট( ইম্পালস কন্ট্রোল) ইস্যু -মানে বর্ডারলাইন পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার এ ভুগছে । তাকে "প্লীজ সাইকোলজিস্ট এর হেল্প নাও " এর পরিবর্তে- "পুরুষ মানুষ তো একটু রাগী হবেই "বলে বিষয়টাকে সহজ, সুইট আর রোমান্টিক বানায়ে দিনের পর দিন কোপ করেই যায় - সেই টাইপের সম্পর্কের কথা বলছি না।
যে সম্পর্কে দুইজন সঙ্গীরই সুস্থ বিকাশ হয় -সেই সম্পর্কের কথা বলছি। তবে আমরা যে সকল সম্পর্কের সাথে পরিচিত, সেগুলার প্রায় সবটাই একজনকে এক্সপ্লয়েট / কুব্যবহার করে আরেকজনের গাছে ওঠা ধরনের ( এবং আমাদের সমাজে, মোস্টলি ছেলেরাই গাছে উঠতে চায়। মেয়েদেরও যে স্বার্থ বা ভীশন থাকতে পারে, ইচ্ছাশক্তি বা এজেন্সি থাকতে পারে - এই ধারনার আশেপাশেও নাই।এটা কীভাবেই বা সম্ভব? )।
সুস্থ সম্পর্ক কোন আদর্শ গল্প না, ১০০% রিয়েল। বাংলাদেশে রেয়ার, কিন্তু রিয়েল
 
 
বানানরীতি লেখকের


বিষয়: saima zebin sreyan


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top