বাংলাদেশের উন্নয়ন চমকপ্রদ


প্রকাশিত:
১৯ ডিসেম্বর ২০২১ ২৩:০৭

আপডেট:
১৯ ডিসেম্বর ২০২১ ২৩:৩৫

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলেছে, স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে চমকপ্রদ উন্নতি করেছে। অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলো বরাবরই ইতিবাচক ধারায় থাকায় দেশটি ধারাবাহিকভাবে ভালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (জিডিপি প্রবৃদ্ধি) অর্জন করেছে। সেই সঙ্গে সামাজিক সূচকেও উন্নতি করেছে সমানতালে।

তারই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে বাংলাদেশ।

আইএমএফের মতে, বাংলাদেশ যদি কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধান করে এবং নীতিকাঠামোর আধুনিকীকরণ করে, তাহলে ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছানোর স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে।

 

বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তির এক দিন পর শনিবার দেশটির সাফল্য নিয়ে এই মূল্যায়ন করেছে বিশ্ব আর্থিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা আইএমএফ।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের একাধিক ঢেউ নাড়িয়ে দিয়ে গেলেও সরকারের দ্রুত ও সময়োচিত পদক্ষেপে বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করছে আইএমএফ।

আন্তর্জাতিক এই ঋণদাতা সংস্থা বলছে, সংক্রমণের হার কমে আসায় এবং সরকারের অনুকূল নীতিসহায়তা অব্যাহত থাকায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৬ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে।

বাংলাদেশ মিশনের প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছে। এই সফরে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় তাদের এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।

শনিবার আইএমএফের ওযেবসাইটে প্রকাশ করা প্রতিবেদনে বলা হয়, মহামারির শুরুর ধাক্কায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নেমে গিয়েছিল ৩ দশমিক ৫১ শতাংশে, যা তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম।

এরপর ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হওয়ার হিসাব দেয় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সরকার ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছে। তবে বিশ্বব্যাংকের হিসাবে এবার বাংলাদেশ ৬ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে। আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে।

এ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। তবে গত অক্টোবরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ, যা গত কয়েক মাস ধরেই বাড়ছে।

আইএমএফ বলছে, খাদ্যবহির্ভূত পণ্য, বিশেষ করে জ্বালানির দাম বাড়ায় অর্থবছর শেষে সার্বিক মূল্যস্ফীতি সরকারের হিসাবের চেয়ে কিছুটা বেশি হবে।

স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে মহামারির কারণে ব্যয় বাড়ায় এ অর্থবছরে সরকারের বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে জিডিপির ৬ দশমিক ১ শতাংশ।

তবে মূলধনী যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল এবং ভোগ্যপণ্যের আমদানি বাড়ায় চলতি হিসাবের ঘাটতি এ অর্থবছরে আরও বাড়বে বলেই আইএমএফ মনে করছে।

আইএমএফ বলেছে, অর্থনীতি যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত হবে মূল্যস্ফীতির দিকে নজর রাখা এবং প্রয়োজনে বাজারে মুদ্রাপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা।

মহামারির মধ্যে গত দুই বছরে সরকারের ঋণ বেড়ে গেলেও আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং দেশে টিকাদান পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ঋণের বোঝা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে খুব বেশি ঝুঁকি দেখছে না আইএমএফ।

বাংলাদেশের অর্থনীতি এই গতিপথ ধরে রাখতে পারলে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৭ দশমিক ১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ।

তবে সার্বিক বিবেচনায় সামনের দিনগুলোতে যে বেশ কিছু অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি রয়েছে, তাও জানিয়েছে আইএমএফ।

সে জন্য রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে সরকারের নীতিকাঠামো সংস্কারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, ক্ষত সারিয়ে অর্থনীতি যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে জন্য সরকারের সহযোগিতা দিয়ে যাওয়া জরুরি। সেই সাথে বিদ্যমান দুর্বলতাগুলোও কাটিয়ে উঠতে হবে।

সে জন্য রাজস্ব খাতের আধুনিকায়ন, রাজস্ব ব্যয়ের যৌক্তিকীকরণ, সঞ্চয়পত্রকে বাজেটের সরাসরি অর্থায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত না রাখা এবং জ্বালানির দাম নির্ধারণে একটি আধুনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার সুপারিশ করেছে আইএমএফ।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top