পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে যাত্রা শুরু


প্রকাশিত:
২১ মার্চ ২০২২ ১২:৪০

আপডেট:
১৮ মে ২০২২ ০৭:০৫

এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দেশের সবচেয়ে বড় ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধানখালীর পায়রাতে নির্মিত সর্বাধুনিক আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সোমবার দুপুর ১২টার দিকে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

বেলুন উড়িয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উদ্বোধনের সময় উড়ানো হয় এক হাজার ৩২০টি পায়রা। এর আগে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে রওনা দিয়ে পটুয়াখালী পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। হেলিপ্যাডে সেখানে অবতরণের পর তাকে গার্ড অব অনার জানায় বাংলাদেশ পুলিশের একটি চৌকস দল।

করোনাভাইরাস মহামারির পর ঢাকার বাইরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ছাড়া এটি সরকারপ্রধানের প্রথম কোনো সফর।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় পুরো এলাকা। নানা আয়োজনের মধ্যে সবার নজর কেড়েছে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে ১৫০টি নৌকা।

জেটিতে রঙিন পাল তোলা এসব নৌকা থেকে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিবাদন জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী হাতে নেড়ে অভিবাদন গ্রহণ করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিজের মোবাইল ফোন বের করে তার ছবি তোলা বা ভিডিও করতে দেখা যায়। কলাপাড়ার ধানখালীর পায়রাতে নির্মিত সর্বাধুনিক আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির কয়লা ভিত্তিক এ তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশের নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কম্পানি (এনডাব্লিউপিজিসিএল) ও চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) সমান অংশীদারে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে।

এই দুটি প্রতিষ্ঠান মিলে কেন্দ্র পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল) নামে পৃথক একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৩তম, এশিয়ায় সপ্তম এবং দক্ষিণ এশিয়াতে বাংলাদেশ ছাড়া শুধু ভারতে এ ধরনের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে।

এশিয়ার চীন, তাইওয়ান, জাপান ও মালয়েশিয়াতে আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও ঢাকনাযুক্ত কোল ইয়ার্ড ব্যবহার করে চীন ও বাংলাদেশ। যার ফলে বাতাসের মাধ্যমে কয়লা থেকে গুঁড়ো ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ কমে যায়।

৬৬০ মেগাওয়াটের দুই ইউনিট মিলে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রথম ইউনিট উৎপাদনে আসে ২০২০ সালের ১৫ মে। সমান ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিট উৎপাদনে আসে ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর। বর্তমানে এ কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন ৭০০ থেকে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।

সঞ্চালন অবকাঠামোর নির্মাণ শেষ না হওয়ায় কেন্দ্রটি থেকে ক্ষমতার চেয়ে কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির জন্য প্রতিদিন ১৩ হাজার টন কয়লা প্রয়োজন। যার যোগান আসছে ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া থেকে।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ২০০৯ সালে বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী ছিল ৪৭ শতাংশ। গত ১৩ বছরে ৫৩ শতাংশ বেড়ে এখন শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে।

২০০৯ সালে গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮ লাখ। বর্তমানে বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ২১ লাখ। ২০০৯ সালে দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট। বর্তমানে ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য মিলিয়ে বর্তমানে তা ২৫ হাজার ৫১৪ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। সঞ্চালন লাইন স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে সরকার। তবে দুর্গম এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top