স্বপ্নের চার লেন মহাসড়ক পাচ্ছে সিলেটবাসী


প্রকাশিত:
২৪ অক্টোবর ২০২১ ০৭:৩৩

আপডেট:
২৯ নভেম্বর ২০২১ ১২:৩৪

অবশেষে আলোর মুখ দেখছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চার লেন প্রকল্প। রোববার (২৪ অক্টোবর ভার্চ্যুয়ালি মেগা প্রকল্পটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিন সকাল ১০টায় সিলেট জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুস্তাফিজুর রহমান।

সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন চার লেন মহাসড়ক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের সঙ্গে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন হবে। বদলে যাবে এ অঞ্চলের অর্থনীতির চিত্র, গতি পাবে শিল্প ও পর্যটনে।

শুধু তাই নয়, চার লেন হয়ে গেলে এ মহাসড়ক দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ারও আশা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত হলে সিলেট অঞ্চলের পর্যটনে নতুন সম্ভাবনার দোয়ার খুলবে। যাতায়াতে সময় অর্ধেক কমে আসলে সিলেটমুখী হবেন পর্যটকরা। এছাড়া পর্যটনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ব্যবসাও পাবে নতুন গতি।

এ বিষয়ে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এ টি এম শোয়েব বলেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কটি ছয় লেন করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা। অবশেষে চার লেন হচ্ছে। মেঘা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য দারুণ সুখবর। এতে করে সিলেট শিল্পায়নে অগ্রসর হবে, রপ্তানি বাণিজ্যের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। বাড়বে কর্মসংস্থানও।

ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব সিলেটের সদস্য জহিরুল কবীর চৌধুরী শিরু বলেন, মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হলে সিলেট অঞ্চলের পর্যটন অনেক এগিয়ে যাবে। যাতায়াতে সময় কমে আসায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকরা ছুটে আসবেন সিলেটে। পর্যটনকেন্দ্রিক সব ব্যবসায়ীরাও লাভবান হবেন।

একনেকে অনুমোদনের প্রায় ৮ মাস পর আলোর মুখ দেখছে সিলেট-ঢাকা চার লেন মহাসড়ক মেঘা প্রকল্পটি। চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন মিলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেন প্রকল্প'র।

১৬ হাজার ৯১৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে অনুমোদিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ১৩ হাজার ২৪৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ঋণ দেবে এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। বাকি ৩ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা দিবে সরকার।

ঢাকার কাঁচপুর থেকে সিলেটের পীর হাবিবুর রহমান চত্বর পর্যন্ত প্রস্তাবিতসড়কটির দৈর্ঘ্য হবে ২০৯ দশমিক ৩২ কিলোমিটার। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করবে সরকারের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর নাগাদ বাস্তবায়ন করবে সংস্থাটি।

ঢাকা-সিলেট চার লেন প্রকল্প নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। সড়কটি চার লেনে উন্নীত করতে কখনো চীনের টাকায়, কখনো এডিবির টাকা, আবার কখনো রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকায় বাস্তবায়নের আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এডিবির ঋণেই বাস্তবায়ন হচ্ছে প্রকল্পটি।

প্রকল্পটিতে মূল সড়কের উভয় পাশে ধীরগতির যান চলাচলের জন্য আলাদা সার্ভিস লেন নির্মিত হবে। বাঁক সরলীকরণসহ অধিকমাত্রার ট্রাফিক বিবেচনায় এনে ৮০ কিলোমিটার গতিবেগ নিশ্চিত করা হবে। শিল্প ও বাণিজ্যে গতিশীলতা আনতে এশিয়া হাইওয়ে নেটওয়ার্ক, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাত দেশের জোট ‘বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) করিডোর, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) করিডোরসহ আঞ্চলিক সড়ক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে চারলেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ বিশেষ করে ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান এবং চীনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশ কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এসব বিবেচনায় প্রকল্পটি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। চারলেন বিশিষ্ট মহাসড়কের উভয়পাশে ধীরগতির যান চলাচলের জন্য ৫ দশমিক ৫ মিটার প্রশস্ত করাসহ প্রকল্পের আওতায় সড়ক নির্মাণে অতিরিক্ত ৯৮৬ দশমিক ৪৭ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। এজন্য মোট ব্যয় হবে চার হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। ভূমি অধিগ্রহণে কাঁচপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত ইউটিলিটিও স্থানান্তর করা হবে, নির্মাণ করা হবে ৩২১টি আরসিসি কালভার্ট। কালভার্টগুলোর মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় এক হাজার ৩৮১ মিটার। ছোট-বড় ৭০টি ব্রিজসহ থাকবে ৭টি ফ্লাইওভার/ওভারপাস, ৬টি রেলওয়ে ওভারপাস।

ঢাকা (কাঁচপুর) থেকে সিলেটের মোট দূরত্ব ২২৩ দশমিক ১২৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১১ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত। এর উন্নয়ন এলওসির আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ভৈরব ব্রিজ বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রস্তাবিত সড়কের মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ২০৯ দশমিক ৩২৮ কিলোমিটার।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top