মিশরের প্রাচীন মূর্তিগুলোর নাক ভাঙার রহস্য


প্রকাশিত:
২২ এপ্রিল ২০২১ ০১:১১

আপডেট:
১৭ মে ২০২১ ০৭:১৬

প্রাচীন মিশরের সৌন্দর্য লুকিয়ে রয়েছে তাদের অসাধারণ শিল্প নৈপুণ্য ও বিজ্ঞান মনস্কতায়। পাথরের তৈরির অদ্ভুত সুন্দর সব মূর্তির দেশ মিশর। বর্তমান পৃথিবীর বুকে মিশর তার নিজের জন্যে অনন্য এক স্থান ধরে রেখেছে তার প্রাচীন ইতিহাসকে কেন্দ্র করে। এক এক করে সেই ইতিহাস যেন মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসছে।

মিশরের কথা ভাবতেই চোখের সামনে প্রথম যা ভেসে ওঠে তা হল মরুভূমির বুকে কয়েক হাজার বছরের ইতিহাসকে সাক্ষী করে দাঁড়িয়ে থাকা পিরামিড আর ফ্যারাওদের মমির কথা। প্রতি বছর সারাবিশ্ব থেকে প্রায় এক কোটি পর্যটক পিরামিডসহ অন্যান্য প্রাচীন স্থানগুলো দেখার উদ্দেশ্যে মিশরে যান ভ্রমণ করতে। তবে এর মধ্যে কিছু কিছু বিষয় পর্যটকদের এখনো বেশ কৌতূহলী করে তোলে।

বিভিন্ন রাজা-বাদশাহ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেব-দেবী ও পশুপাখির মূর্তি রয়েছে। এই মূর্তিগুলো মিশরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাদুঘরে স্থান পেয়েছে। তবে এসব মূর্তির মধ্যে একটি অদ্ভুত মিল লক্ষ্য করা যায় যেটি হলো প্রাচীন মূর্তিগুলোর প্রায় অধিকাংশেরই নাক ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। কী রহস্য রয়েছে এর পেছনে?

শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও প্রাচীন মিশরের বাসিন্দারা বিশ্বাস করতেন যে মূর্তির মধ্যেও জীবনী শক্তি রয়েছে। তাই সেই প্রাণ যদি কখনো খারাপ রূপে ফিরে আসে তাদের মধ্যে তাহলে তাদের ক্ষতিসাধন করতে পারে সেগুলো।

এই বিশ্বাসের কারণে প্রাচীন বাসিন্দারা সিদ্ধান্ত নেন যে এসব মূর্তিকে হত্যা করে ফেলবেন তারা। আর তারা হত্যা করার একটি উপায় হিসেবেই সেগুলোর নাক ভেঙে ফেলেন। কারণ এই বিষয়ে তাদের ধারণা ছিল যে মূর্তির মধ্যে যে জীবনী শক্তি রয়েছে, সেটি তারা ফিরে পেতে পারে নাক দিয়ে নেওয়া শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে।

প্রাচীন মিশরের বিভিন্ন রাজা, রানী ও ধনী ব্যক্তিদের জীবদ্দশায় এসব মূর্তির কোনো ক্ষতি করা হতো না। কিন্তু তাদের মৃত্যুর পরই মূর্তিগুলোর নাক ভেঙে তাদের শক্তিকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। মূর্তির মধ্যে যে জীবনী শক্তি এই ভ্রান্ত ধারণাটি পুরো মিশর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ও ধীরে ধীরে বিভিন্ন স্থান থেকে মূর্তি চুরি হতে থাকে।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top