পাহাড়ের গা বেয়ে আগুনের ঝর্ণা


প্রকাশিত:
২ মে ২০২১ ২৩:৪৭

আপডেট:
২০ অক্টোবর ২০২১ ২০:৩৩

ফাইল ফটো
ছোটবেলায় আমরা পড়েছিলাম ‘ঝর্ণা ঝর্ণা সুন্দরী ঝর্ণা’। এই সুন্দর ঝর্ণা মানেই একরাশ জল নেমে আসছে পাহাড়ের গা বেয়ে এমনটাই আমরা কল্পনা করে থাকি। তবে কখনো শুনেছেন যে জল নয় বরং পাহাড়ের গা বেয়ে আগুনের ঝর্ণা ধারা বয়ে চলেছে? বিষয়টি অবাক করার মতোই।
 
কালো কুচকুচে পাহাড়ের উপর সাদা বরফের স্তর জমেছে। আর তার গা দিয়ে ঝরছে আগুনে লাল রঙের আভা। তবে এমন চমক এক বছরের মধ্যে শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই দেখা যায়। ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়সমাইট ভ্যালিতে গেলে এমন অদ্ভুত ফায়ারফলস দেখতে পাবেন আপনি।
 
শীত থেকে শুরু হয় এই ঝর্ণা এবং বসন্তের প্রাক্কাল পর্যন্ত স্থায়ী থাকে এই ফায়ারফলস। সূর্যের আলোয় জলপ্রপাতের জলের রং হয়ে যায় একেবারে আগুনের মতো উজ্জ্বল কমলা বর্ণের। দূর থেকে মনে হবে যেন পাহাড়ের গা বেয়ে আগ্নেয়গিরির কোনো শিখা ছুটে আসছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সিয়েরা নেভাদায় এই জাতীয় উদ্যানটি রয়েছে।
 
এটি অত্যন্ত শান্ত প্রর্কৃতির একটি প্রাকৃতিক উদ্যান। সবুজ রঙের বড় বড় ফার্ণ, পাইন গাছের প্রাচুর্য রয়েছে পার্কের মধ্যেই।
 
আর ঠিক তার মধ্যে থেকেই পাহাড়ের চূড়া বেয়ে বইছে আগুনের এই অদ্ভুত ঝর্ণা। আগে ইয়সমাইটের বাসিন্দা মনে করতেন, ওই জলপ্রপাতের নিচে কেউ বনফায়ার করছে। প্রতিদিন যেন রাত ৯টা হলেই টানা ১০ দিন ধরে সেখানে আগুন জ্বেলে রাখে কেউ। তার জন্যই ওই ঝর্ণাও আগুন-জলে পরিণত হয়।
 
১৯৬৮ সালের পর থেকে ওই জায়গায় মানুষের যাওয়া নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। তবে এই উপত্যকায় বসবাসকারী আওয়াহিনীচি ইন্ডিয়ানরা সম্ভবত এর অস্তিত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন।
 
১৯৭৩ সালে ফটোগ্রাফার গ্যালেন রওয়েল এই ঝর্ণার ছবি তুলতেই তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যটকদের ভিড়ে বের বিখ্যাত হয়ে উঠেছে এই স্থানটি।
 
ইআই ক্যাপ্টেন পিকের পূর্ব দিকে এই জলপ্রপাতকে ঘিরেই প্রকৃতি প্রেমী মানুষের উন্মাদনা থাকে ফেব্রুয়ারি মাসের মাত্র ১০ দিনের জন্য।


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top