ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরাম (ডাব্লিউইএফ)-এর রিপোর্ট

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে শীর্ষ পাঁচে বাংলাদেশ


প্রকাশিত:
৫ এপ্রিল ২০২১ ২১:৫৪

আপডেট:
২০ অক্টোবর ২০২১ ১৮:৫৯

ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরাম (ডাব্লিউইএফ)-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ শীর্ষ পাঁচটি দেশের একটি৷শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক সুযোগ ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন- মূলতঃ এ চারটি বিষয় নিয়ে ১৪৯টি দেশের ওপর গবেষণা করে বার্ষিক এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে জেনিভাভিত্তিক সংস্থাটি৷ সেখানেই দেখা গেছে নারী-পুরুষ বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সবক'টি দেশ তো বটেই, পেছনে ফেলেছে এশিয়া, আফ্রিকা ও অ্যামেরিকা মহাদেশের অনেক দেশকে৷ এমনকি বিশ্বের সেরা ২০টি ধনী দেশেরও কারো কারো থেকে সূচকে এগিয়ে বাংলাদেশ৷

ডাব্লিউইএফ-এর হিসেবেনারীর সার্বিক ক্ষমতায়নে৪৮তম অবস্থানে বাংলাদেশ৷ বাংলাদেশের এ অবস্থানের কারণ, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন৷ এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান পাঁচ৷ প্রথম চারটি দেশ হলো আইসল্যান্ড, নিকারাগুয়া, নরওয়ে ও রুয়ান্ডা৷

তবে অর্থনৈতিক সুযোগ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধার আওতার সূচকে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ৷ নারীদের অর্থনৈতিক সুযোগের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৩, শিক্ষায় ১১৬ ও স্বাস্থ্যে ১১৭৷ তবে সার্বিকভাবে ৪৮তম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র (৫১তম) থেকেও৷ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তান ১৪৮, ভুটান ১২২, ভারত ১০৮, নেপাল ১০৫ ও শ্রীলঙ্কা ১০০তম অবস্থানে রয়েছে৷

ব্যবধান ঘুচবে না দু'শ বছরেও

ডাব্লিউইএফ দেখতে পেয়েছে যে, বেশকিছু বিষয়ে বৈশ্বিক লিঙ্গ বৈষম্য আগামী ১০৮ বছরে দূর হবে না৷ আর কর্মক্ষেত্রে বেতন ও অন্যান্য সুবিধার বিষয়ে এই বৈষম্য কমতে আরো ২০২ বছর লাগবে৷ তারা বলছে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও রাজনীতিতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বিগত বছরগুলোতে অগ্রগতি হয়েছে৷ তবে সম্প্রতি আবারো নারীরা খেই হারিয়েছেন তিনটি খাতেই৷
ডাব্লিউইএফ-এর হিসেবে বৈশ্বিক গড় হিসেব করলে অর্থনৈতিক সুবিধাপ্রাপ্তিতে বৈষম্য প্রায় ৫১ ভাগ দূর হয়েছে এবং নারী নেতৃত্ব বেড়েছে ৩৪ ভাগ৷ তবে একইসঙ্গে নারীর কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ কমেছে৷ কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, অটোমেশনের কারণে নারীর কাজের সুযোগে আঘাত পড়েছে বেশি৷ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গাণিতিক দক্ষতায় নারীরা পিছিয়ে আছে বলে মনে করে ডাব্লিউইএফ৷ তারা বলছে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স খাতের চাকরিতে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ২২ ভাগ৷

গবেষণায় দেখা গেছে, আগামী ৬১ বছরে পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলো সার্বিক নারী বৈষম্য কমাতে পারবে৷ তবে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা ১৫৩ বছর সময় নেবে৷ নর্ডিক দেশগুলো বৈষম্য দূরীকরণে সবচেয়ে এগিয়ে আছে৷ আইসল্যান্সে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ প্রায় সমান৷ এরপর আছে নরওয়ে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ড৷ তবে অন্যদিকে, সিরিয়া, ইরাক, পাকিস্তান ও ইয়েমেনে বৈষম্য সবচেয়ে বেশি৷

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ২০টি দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্স ১২তম, জার্মানি ১৪তম, ব্রিটেন ১৫তম, ক্যানাডা ১৬তম এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ১৯তম স্থানে রয়েছে৷ যুক্তরাষ্ট্রে পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি ঘটছে৷ গেল বছরের চেয়ে দুই ধাপ পিছিয়ে তারা এখন ৫১তম স্থানে৷



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top