বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায়

কোভিশিল্ডের বদলে বাংলাদেশকে অন্য টিকা দেওয়ার প্রস্তাব ভারতের


প্রকাশিত:
২৫ এপ্রিল ২০২১ ১১:৪৪

আপডেট:
২৫ এপ্রিল ২০২১ ১২:৩৪

ভারত থেকে সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত করোনা ভ্যাকসিন ‘কোভিশিল্ড’ শিগগিরই পাচ্ছে না বাংলাদেশ।শনিবার ভারতীয় হাইকমিশন থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া একটি চিঠিতে বিষয়টি জানিয়েছে। আজ রোববার ভারত  কোভিশিল্ডের তুলনায় কোভ্যাক্সিন দিতে চায়। এ তথ্য কুটনীতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। ভারতীয় হাইকমিশন থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া একটি চিঠিতে বিষয়টি জানিয়েছে।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত যুক্তরাজ্যে উদ্ভাবিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিয়ে বাংলাদেশে করোনার টিকাদান কর্মসূচি চলছে। সেরামের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক এ প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলাদেশের ৩ কোটি ডোড টিকা পাওয়ার কথা।

 কিন্তু ভারতের করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতির পর সেরামের ওই টিকা পাওয়ার বিষয়টি ঝুলে আছে। গত বছরের ডিসেম্বরে হওয়া চুক্তি মোতাবেক প্রতিমাসে ৫০ লাখ ডোজ করে টিকা পাওয়ার কথা বাংলাদেশের। কিন্তু এ পর্যন্ত দুই কিস্তিতে মাত্র ৭০ লাখ ডোজ টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ। ফলে বাংলাদেশে করোনার টিকার প্রথম ডোজ নেওয়া প্রত্যেকে দ্বিতীয় ডোজ পাবেন কি-না তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। 

আইসিডিডিআরবি ও ভারত বায়োটেক গত বছরের ডিসেম্বর মাসে কোভ্যাক্সিনের ফেজ থ্রির ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের চুক্তি করেছিল। তবে সেই ট্রায়াল শুরুর অনুমোদন এখনও পাওয়া যায়নি। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ডের তুলনায় কোভ্যাক্সিন বেশি কার্যকর, প্রায় ৮০ শতাংশ।

টিকা তৈরির ক্ষেত্রে বিশ্বের এক নেতৃস্থানীয় দেশ ভারত। তাদের ছয়টি বড় আকারের টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আছে যা পৃথিবীর ৬০ শতাংশ টিকা উৎপাদন করে। ভারত বায়োটেক নামে ২৪ বছরের পুরোনো টিকা উৎপাদনকারী এই কোম্পানি উদ্ভাবন করেছে কোভ্যাক্সিন। 

কোভ্যক্সিন টিকাটি তৈরি হয়েছে মৃত করোনাভাইরাস দিয়ে, যাকে বলে ‘ইনএ্যাক্টিভেটেড ভ্যাকসিন।’ এটি নিরাপদে ইনজেকশন আকারে মানুষের শরীরে দেওয়া যায়। এটা মানবদেহে ইনজেকশন আকারে দেয়া হলে - রোগপ্রতিরোধী দেহকোষগুলো তখনও মৃত করোনাভাইরাসটিকে চিনতে পারে এবং দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে জাগিয়ে তোলে। তখন ভাইরাসটির বিরুদ্ধে দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে থাকে।

কোভিশিল্ডের মতো কোভ্যাক্সিন টিকারও দুটি ডোজ নিতে হয়, চার সপ্তাহের ব্যবধানে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে ভারতীয় হাইকমিশনকে চিঠি দিয়ে ভ্যাকসিন সরবরাহের বিষয়ে তথ্য চেয়েছিল।

সেরামের প্রধান নির্বাহী আদর পুনেওয়ালা গত সপ্তাহে এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেন, রপ্তানির বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা নেই। আমরা এখন মনে করছি যে এ সময় আমাদের দুমাস রপ্তানির দিকে নজর দেওয়া উচিত নয়। জুন-জুলাইয়ের দিকে আমরা অল্প আকারে রপ্তানির বিষয়ে চিন্তা করতে পারব।এখন আমরা দেশের (ভারত) প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে যাচ্ছি।

এদিকে, বাংলাদেশে সেরামের স্থানীয় প্রতিনিধি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন সাংবাদিকদের বলেছেন, আগাম অর্থ পরিশোধের পরও ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ করার কোনো অধিকার সেরাম ইনস্টিটিউটের নেই।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top