ভারত মাধ্যমে নয়, এখন সরাসরি মধ্যস্থতার পথ ধরবে যুক্তরাষ্ট্র


প্রকাশিত:
৪ জানুয়ারী ২০২২ ১১:০৮

আপডেট:
২৯ জানুয়ারী ২০২২ ০১:৫৮

ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে নড়াচড়া শুরু হয়েছে। বিষয়টি এখন আর চীন-ভারতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সীমিত নেই। বৈশ্বিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রভাব বৃদ্ধি করতে যাচ্ছে। পরাশক্তিকেন্দ্রিক নতুন মেরুকরণ লক্ষ করা যাচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের ওপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে, বাংলাদেশের নীতি-কৌশল কী হওয়া উচিত, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান কোন পথে—এসব নিয়ে কথা বলেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) সভাপতি মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এ এন এম মুনীরুজ্জামান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ কে এম জাকারিয়া

প্রশ্ন: এই অঞ্চলের ভূরাজনীতি চীন-ভারত বিরোধ আর আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমিত নেই। যুক্তরাষ্ট্র এতে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলে সামনের দিনগুলোতে এর কী প্রভাব পড়তে যাচ্ছে?

এ এন এম মুনীরুজ্জামান: এ অঞ্চলে চীন-ভারত কৌশলগত প্রতিযোগিতা দিন দিন বেড়ে চলেছে। লাদাখ সীমান্তে গত বছর চীনের সঙ্গে ভারতের সামরিক উত্তেজনার পর থেকেই এ প্রতিযোগিতা সামরিক দ্বন্দ্বে রূপান্তরিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এ সম্ভাব্য সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু মনে করা হচ্ছে ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলের অরুণাচল প্রদেশকে। ভূরাজনৈতিক অবস্থানের কারণে এ সম্ভাব্য পরিস্থিতির সরাসরি বিরূপ প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়ার আশঙ্কা আছে। তা ছাড়া কোনো ধরনের সংঘাত হলে তার প্রভাবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত হবে এবং তার প্রতিক্রিয়া এ অঞ্চল এবং বাংলাদেশের ওপরে পড়বে। বর্তমান কৌশলগত রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি মিত্র হিসেবে গণ্য ভারত। কাজেই স্বভাবতই সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে ভারতের পাশে যুক্তরাষ্ট্র থাকবে বলে ধারণা করা যায়। এ আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে পরাশক্তির সমর্থনের কারণে এটা সম্পূর্ণরূপে আন্তর্জাতিক রূপ নিতে পারে।

প্রশ্ন: কোয়াডের মতো জোটে বাংলাদেশ যাতে যোগ দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের তরফে সেই চেষ্টা আছে। একই সঙ্গে গঠিত হয়েছে সামরিক জোট অকাস। বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য বিষয়টি কতটা সংবেদনশীল?

এ এন এম মুনীরুজ্জামান: ২০০৭ সালে কোয়াড জোট গঠন করা হয়। তবে কয়েক বছর এর কার্যক্রম স্তিমিত ছিল। ২০১৭ সালে কোয়াডের কার্যাবলি পুনরুদ্ধারের পরে, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর থেকে এর একটি পুনর্জাগরণ দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক কৌশলগত পরিস্থিতিতে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের একধরনের কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সূত্রপাত হয়েছে। বর্তমান চীনবিরোধী যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের মুখ্য ভূমিকায় রয়েছে কোয়াড এবং এর কার্যক্রম। অতি সম্প্রতি কোয়াডের অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি দেশ এবং যুক্তরাজ্যকে নিয়ে গঠিত হয়েছে অকাস। কোয়াড ও অকাস গঠনের উদ্দেশ্য চীনকে প্রতিহত করা। কোয়াডের এ উদ্দেশ্য সফল করার জন্যই এর সদস্যপদ সম্প্রসারিত করার জন্য বিভিন্ন মহলে আলোচনা আছে এবং বিভিন্ন সময়ে নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামকে সম্ভাব্য দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে কখনোই বাংলাদেশের নাম সেই সম্ভাব্য তালিকায় আসেনি। কোয়াড সম্প্রসারণের রূপরেখার তালিকায় সঠিকভাবে কোন কোন দেশ থাকতে পারে, সেটা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে সদস্যপদে অন্তর্ভুক্তি ছাড়াও কোয়াডের প্রভাববলয় বৃদ্ধি করার চেষ্টা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে এবং সেই প্রচেষ্টার ভেতরে যে বাংলাদেশও আছে, তা বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে। সার্বিকভাবে বর্তমান কৌশলগত পরিস্থিতি একটি বিবর্তনের ধারাবাহিকতার মধ্যে আছে, যা আমাদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে চীনের বড় বড় বিনিয়োগ রয়েছে। এসব কারণে বাংলাদেশের চীননির্ভরতা বাড়ছে। ভূরাজনৈতিক বিবেচনায় এর গুরুত্ব কতটুকু?

এ এন এম মুনীরুজ্জামান: বাংলাদেশে বর্তমানে যে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে আছে, তা অনেকাংশে চীনা অর্থায়নে হচ্ছে এবং এ কারণেই চীনের ওপর নির্ভরতা আছে। আমরা জানি যে অর্থনৈতিক নির্ভরতা থেকেই রাজনৈতিক ও কৌশলগত নির্ভরতা শুরু হয় এবং এ পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িত হয়ে যায়। বর্তমানে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সৃষ্টি হয়েছে, সে জন্য চীনের ওপর এ ধরনের নির্ভরতা বিভিন্ন কৌশলগত ও নিরাপত্তাবিষয়ক সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

প্রশ্ন: যুক্তরাষ্ট্র মাঝখানে বিশ্বরাজনীতি থেকে নিজেকে অনেকটাই গুটিয়ে নিয়েছিল। এ অঞ্চলে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র অনেকটাই ভারতনির্ভর হয়ে পড়েছিল বলে অনেকে মনে করেন। সে অবস্থার বদল ঘটতে যাচ্ছে কি?

এ এন এম মুনীরুজ্জামান: প্রেসিডেন্ট বাইডেন হোয়াইট হাউসে প্রবেশের পর থেকেই বিশ্বের কাছে ঘোষণা দেন যে ‘আমেরিকা ইজ ব্যাক’ অর্থাৎ আমেরিকা বিশ্বরাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে আবার ফিরে আসছে। আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা মোতাবেক এ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই চিহ্নিত করে রেখেছে। ২০১৮ সালের নীতিমালায় ভারতকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ব্যবস্থাপক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র এ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে তাদের কর্মকাণ্ড আগের থেকে অনেক বৃদ্ধি করেছে এবং এখানে তারা প্রধান মিত্র হিসেবে ভারতকে সঙ্গে নিয়ে চলতে চায়। ভারত কোয়াড জোটেরও অন্তর্ভুক্ত একটি দেশ, কাজেই সেখানেও তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান আছে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে যে ইদানীংকালে অকাস গঠনের সময় কোয়াড অন্তর্ভুক্ত অন্য দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত হলেও ভারতকে এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এতে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ভারতের ভূমিকা এবং গুরুত্বকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠে এসেছে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের ওপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে?

এ এন এম মুনীরুজ্জামান: আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা এবং কার্যক্রম কোনোটারই আমূল পরিবর্তন আসেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নীতিমালার ক্ষেত্রে এটা অনুধাবন করা হচ্ছে যে তারা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে সরাসরি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে কাজ করবে। সেখানে তৃতীয় কোনো দেশ বা ভারতের মধ্যস্থতা করার কোনো সুযোগ থাকবে না। বাংলাদেশ তার নিজস্ব কৌশলগত গুরুত্বের কারণেই তাদের ভূকৌশলগত অবস্থান বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ পাবে। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের কাছ থেকে বাংলাদেশের এ অবস্থানকে গ্রহণ করার ইঙ্গিত আমরা পাচ্ছি।

প্রশ্ন: সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পদক্ষেপে এটা মনে হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে দেশটি বাংলাদেশের ওপর পরিকল্পিত চাপ সৃষ্টি করছে। এর সঙ্গে চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিযোগিতা বা এর অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি?

এ এন এম মুনীরুজ্জামান: সাম্প্রতিক কালে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের কিছু সংস্থা ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এটার প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে অভ্যন্তরীণ কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাকে। এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া এবং আইনের বিশ্লেষণ করে এটাকে সঠিকভাবে বোঝা সম্ভব। আন্তর্জাতিক কৌশলগত পরিস্থিতিতে সব রাষ্ট্রই, বিশেষ করে শক্তিধর ও বৃহত্তর রাষ্ট্রগুলো তাদের নিজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কোনো প্রভাব আছে কি না, সেটা বিবেচনায় নিয়ে আরও গভীর বিশ্লেষণ করার অবকাশ আছে।

প্রশ্ন: এ অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে যদি দেশগুলোর ওপর মেরুকরণের চাপ বাড়ে, তখন বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর কী কৌশল নেওয়া উচিত?

এ এন এম মুনীরুজ্জামান: বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে একটি নতুন মেরুকরণের সৃষ্টি হয়েছে, যা অনেকের মতে এটি একটি নতুন শীতল যুদ্ধ অথবা শীতলযুদ্ধ ২.০–এর সূচনা হয়েছে। এখানে এ অঞ্চল সম্পূর্ণরূপে বিভাজিত হয়ে যাচ্ছে এবং রাষ্ট্রগুলো যেকোনো একটি ক্যাম্পের অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে কি না, সেটা বড় প্রশ্ন তৈরি করছে। বাংলাদেশের উচিত সব পর্যায়ে এবং সব সময় কৌশলগত নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে সব রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করার কথা বলা হয়েছে। এ মূলনীতি অনুসরণ করে, এ দুই প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান থেকে আমাদের কৌশলগত সমদূরত্ব বজায় রাখতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে সবকিছুর ঊর্ধ্বে আমাদের জাতীয় স্বার্থ এবং আমরা সেই পথেই এগোব।

প্রশ্ন: রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে হতাশা বাড়ছে। ক্যাম্পগুলোর পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আঞ্চলিক নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি দেখছেন কি?

এ এন এম মুনীরুজ্জামান: রোহিঙ্গা সমস্যার কোনো আশু সমাধান দেখা যাচ্ছে না। এ ধরনের শরণার্থী পরিস্থিতি যতই দীর্ঘায়িত হবে, ততই নানা সমস্যা বৃদ্ধি পাবে, যার মধ্যে প্রধান হচ্ছে নিরাপত্তা সমস্যা। ইতিমধ্যে এ নিরাপত্তা সমস্যা সব কটি দিকেই লক্ষ করা যাচ্ছে, যেমন ক্যাম্পের ভেতরে অস্ত্র ব্যবহার এবং হত্যাকাণ্ড, স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘাত এবং হত্যা ও মাদক পাচার ইত্যাদি। এ ছাড়া এখানে ক্ষুদ্র অস্ত্র চোরাচালান ও মানব পাচার হচ্ছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো তাদের সদস্য ও জনবল সংগ্রহের জন্য এ ক্যাম্পগুলোকে উত্তম স্থান হিসেবে মনে করছে। তারা এ ক্যাম্পে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে বলে আশঙ্কা করা যায়। সার্বিকভাবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে, যার একটি অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রূপ আছে। আগামী দিনগুলোতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে সৃষ্ট বিভিন্ন নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি আঞ্চলিক পর্যায়ে একটি প্রকট রূপ ধারণ করতে পারে।

প্রশ্ন: মিয়ানমার বরাবরই চীনের ওপর নির্ভরশীল। সেখানে আবার পুরোদমে সেনাশাসন কায়েম হওয়ার পর সামরিক সরকার আরও বেশি চীননির্ভর হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে চীনের প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছে না কেন?

এ এন এম মুনীরুজ্জামান: মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের গভীর সম্পর্ক বহুদিনের। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বহুল অংশে চীনের ওপর নির্ভরশীল। ভূরাজনৈতিক কারণে মিয়ানমার চীনের কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র। মিয়ানমারের যে বিপুল কৌশলগত খনিজ সম্পদ রয়েছে, সেটাও চীনের কাছে অনেক প্রলুব্ধকর। বিশেষ করে বর্তমানে চীনের ভারত মহাসাগরে প্রবেশের যে অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয়তা ও তাৎপর্য রয়েছে, সেটাই তারা বাস্তবায়ন করতে চাইছে চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডরের অথবা সিমেকের মাধ্যমে। চীন বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাষ্ট্র, তবে কৌশলগত দাঁড়িপাল্লার মাপকাঠিতে মিয়ানমারের ওজন চীনের কাছে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। একইভাবে মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও সহযোগিতা রয়েছে। এ দুটি দেশের মধ্যে সামরিক সহায়তার পরিধি বিস্তৃত হচ্ছে। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে ভারতের কাছ থেকেও মানবিক সাহায্য ছাড়া প্রকৃতপক্ষে অন্য কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। আমরা বিভিন্ন সময় চীনের কাছে সহযোগিতা চেয়েছি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে, কিন্তু সেই ধরনের কোনো আশানুরূপ ফল পাইনি। সুতরাং এসব ক্ষেত্রে কূটনৈতিক তৎপরতার দুর্বলতা আছে কি না, সেটাও বিবেচনা করতে হবে।

প্রশ্ন: আপনাকে ধন্যবাদ।

এ এন এম মুনীরুজ্জামান: আপনাকেও ধন্যবাদ। সূত্র: প্রথম আলো



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top