সাক্ষাৎকার

টিকার সমতা নিশ্চিত না হলে বিপদ: ডা. মুশতাক হোসেন


প্রকাশিত:
২৩ অক্টোবর ২০২১ ০৬:২৩

আপডেট:
২৯ নভেম্বর ২০২১ ১০:৫৯

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমছে। কিন্তু সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির শঙ্কা এখনও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। নিম্নমুখী ধারাটা অব্যাহত রাখতে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, করোনার এই নিম্নগতিতে আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। সেই সঙ্গে সমানতালে চালিয়ে যেতে হবে টিকাদান কর্মসূচি।

প্রশ্ন: সংক্রমণ পরিস্থিতি এখন কেমন?

ডা. মুশতাক হোসেন: দেশে এই মুহূর্তে সংক্রমণ নিম্নমুখী। এতে সন্দেহ নেই। মৃত্যুর সংখ্যাও কম। কিন্তু সংক্রমণ পরিস্থিতি পুরো বিশ্বজুড়েই রয়েছে। বিশ্বের কোথাও কোথাও আমাদের চেয়ে বেশি সংক্রমণ রয়েছে। আমাদের সংক্রমণ কমেছে, ভালো কথা। এটা বজায় রাখতে হলে শনাক্ত রোগীর ব্যবস্থাপনাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। অবহেলার কোনও সুযোগ নেই। সেই সঙ্গে বেশি টিকা দিলে, সংক্রমণ বাড়লেও মৃত্যুর সংখ্যা সে অনুপাতে না-ও বাড়তে পারে। মোদ্দা কথা, শনাক্ত রোগীর ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং টিকাদান কর্মসূচি—সমানতালে চালিয়ে যেতে হবে।

বিশ্বের সব জায়গায় নিয়ন্ত্রণ না হলে কোনও একটি দেশ এককভাবে করোনা নিয়ন্ত্রিত থাকতে পারে না। নতুন ভ্যারিয়েন্টের উদ্ভব হতে পারে। সেটা আবার আক্রমণ করতে পারে।

যদি যথেষ্ট পরিমাণে সারা বিশ্বে টিকা না দেওয়া হয়, কোনও দেশ যদি একাই সব টিকা নিয়ে বসে থাকে, তাতেও কাজ হবে না। ভুটানের মতো দেশে বাংলাদেশের চেয়ে সংক্রমণ বেশি। এ কারণে বাংলাদেশে ভুটান থেকে কেউ এলে তাদেরকে সাত দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হচ্ছে।

প্রশ্ন: ভুটানের ব্যবস্থাপনায় কি ত্রুটি ছিল?

ডা. মুশতাক হোসেন: ভুটানের ব্যবস্থাপনা খুবই ভালো। কিন্তু ভ্যারিয়েন্টের উদ্ভব হয়েছে। সেই ভ্যারিয়েন্ট আক্রমণ করেছে। তাদের প্রস্তুতিতে আঘাত হেনেছে। কাজেই পুরো পৃথিবীর মানুষ যদি ভ্যাকসিন না পায়, সেক্ষেত্রে ভ্যারিয়েন্টের উদ্ভব হতে পারে। তখন ‘আপাত নিরাপদ’ দেশও আক্রান্ত হতে পারে।

প্রশ্ন: শিশুদের টিকা প্রদান নিয়ে কী ভাবছেন?

ডা. মুশতাক হোসেন: টিকার জন্য সারা বিশ্বে সমতা আনতে হবে। সমতা থাকতে হবে দেশের ভেতরও। দেশে বয়োজ্যেষ্ঠরা ঝুঁকিপূর্ণ। তাদেরকে টিকার আওতায় আরও বেশি করে আনার জন্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

দেশে যারা প্রান্তিক মানুষ, দুর্গম এলাকা ও গ্রামে থাকেন, তারা যদি টিকা না পান, সংক্রমণ যদি আবার বাড়ে, তবে মৃত্যুর সংখ্যা কিন্তু আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো না।

এখনও বিপুল সংখ্যক ষাটোর্ধ্ব মানুষ টিকার আওতায় আসেননি। স্কুল শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হচ্ছে, এটা ভালো কথা। কিন্তু জোর দিতে হবে ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের ওপর। যদিও বাংলাদেশে ৫৫ বছর বলা হয়েছে। তথাপি, এই জনগোষ্ঠী যেন টিকার আওতার বাইরে না থাকে।

সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিবার, বাড়ি, প্রতিবেশীরাও যেন টিকার বাইরে না থাকে। দুর্গম, প্রান্তিক ও গ্রামের মানুষদের টিকার নিবন্ধনে সহায়তা করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া দরকার। দেশের ভেতরে যদি আমরা সাম্যতা নিশ্চিত করতে না পারি, সেটা সমপরিমাণ বিপদ ডেকে আনবে।

দূরবর্তী অঞ্চলে ষাটোর্ধ্ব যারা রয়েছেন—সেখানে নিবন্ধন করাতে স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশ দিতে হবে। ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবী যারা রয়েছেন তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিবন্ধন করিয়ে নেবেন। ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের ফোনে এসএমএস না এলেও তারা যেন কেন্দ্রে এসে টিকা নিতে পারেন সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

টিকার এসএমএস অনেকেই পাচ্ছে না। কারণ যত মানুষ নিবন্ধন করেছেন, তত টিকা নেই। তাই বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য এটা উন্মুক্ত রাখা উচিত।

প্রসঙ্গত, দেশে ৫৫ কিংবা তদূর্ধ্ব বয়সসীমার ব্যক্তিদের জন্য সুযোগ রেখে করোনাভাইরাসের টিকার নিবন্ধন শুরু হয়েছিল চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি। পরে দ্বিতীয় দফায় বয়সসীমা কমিয়ে ৪০ বা তদূর্ধ্ব করা হয়। তৃতীয় দফায় ৩৫ বছর, চতুর্থ দফায় ৩০ বছর করা হয় ১৯ জুলাই। এরপর ২৯ জুলাই বয়সসীমা আরও কমিয়ে ২৫ বছর করা হয়।

২০ অক্টোবর টিকা নিতে নিবন্ধনের বয়স কমিয়ে ১৮ বছরে নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় সম্মুখসারিতে যারা কাজ করছেন, তাদের জন্য এই বয়সসীমা প্রযোজ্য নয়।

১৪ অক্টোবর মানিকগঞ্জের কয়েকটি স্কুলের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১২০ জন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষামূলকভাবে ফাইজারের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে।

সেদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছিলেন, পর্যবেক্ষণ শেষে সারাদেশে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের করোনাভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। ২১ অক্টোবর তিনি বলেছেন, ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ১২-১৭ বছর বয়সীদের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আইসিটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা রয়েছে। এই তালিকা পেলে এ মাসেই ওই বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকাদান শুরু হবে। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top