ভিসির পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল শাবিপ্রবি, অনশন চলছে


প্রকাশিত:
২৫ জানুয়ারী ২০২২ ১২:৩০

আপডেট:
২৫ জানুয়ারী ২০২২ ১২:৩৩

আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৩ বছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন উপাচার্য (ভিসি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন। আর স্বাধীনতার পর ৫০ বছরে মাত্র একজন উপাচার্যকে অপসারণ করা হয়েছে। এই মুহূর্তে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। গত ১৩ জানুয়ারি থেকে এই আন্দোলন শুরু হয়।

আমরণ অনশনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছেন ১৪ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষক ও শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের আলোচনা হলেও সুরাহা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি বলছে, উপাচার্যের বিষয়টি সরকারের এখতিয়ারভুক্ত। সরকারকেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পদত্যাগে বাধ্য হলে ফরিদ উদ্দিন হবেন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্দোলনের মুখে সরে যাওয়া ষষ্ঠ উপাচার্য।

এর আগে ২০০৯ সালে পদত্যাগ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস এম এ ফায়েজ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শরীফ এনামুল কবির পদত্যাগ করেন ২০১২ সালে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকজন উপাচার্য মো. আনোয়ার হোসেনকে সরে যেতে হয় ২০১৪ সালে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন আহমেদ ২০১৯ সালে এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস এম ইমামুল হককেও একই বছর পদত্যাগ করতে হয়।

পদত্যাগ করা ভিসিদের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে আন্দোলন শুরু হয়। একজন উপাচার্যকে সরে যেতে হয় সরকার পরিবর্তনের ফলে গড়ে ওঠা আন্দোলনে। বাকি একজন ভিসি কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন।

তবে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন প্রথম মেয়াদ শেষে দ্বিতীয় মেয়াদের এক বছর পার করলে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের কোনো অভিযোগ এখনো ওঠেনি। হলকেন্দ্রিক দাবিতে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে সমাধান না করা এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় তাঁর পদত্যাগের দাবি সামনে চলে আসে।

এদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগ এবং শিক্ষার্থীদের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতীকী অনশন শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও। মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশন শুরু করেন ছাত্রদল নেতারা।

বিচ্ছিন্ন করার প্রায় ২৮ ঘণ্টা পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ১২টার দিকে তারা সংযোগ চালু করে দেন। বিষয়টি মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্ল্যাহ তাহের নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে রোববার রাত পৌনে আটটার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ওই বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। একই লাইনে কর্মচারীদের বাসার লাইন থাকায় সেগুলোরও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা অনুরোধ করেন সংযোগ চালু করে দিতে। তাদের বাসায় অসুস্থ রোগী ও শিশুদের সমস্যার কথা জানালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ সংযোগটি চালু করে দেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মোহামিনুল বাশার রাজ বলেন, উপচার্যের বাসভবনের পেছনে অর্ধশতাধিক কর্মচারীর বাসা রয়েছে। তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানালে আমরা বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে দিয়েছি।

এর আগে রোববার সন্ধ্যা থেকে উপাচার্যের বাসভবনে প্রবেশের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। রোববার সন্ধ্যা থেকে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমকর্মী ছাড়া উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে আর কাউকে ঢুকতে দিচ্ছেন না তারা।

সোমবার অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বাসভবনে তার জন্য খাবার ও ওষুধ নিয়ে যেতে দেননি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সোমবার সন্ধ্যায় শিক্ষকরা উপাচার্য ও তার পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার, পানি ও ওষুধ নিয়ে মূল ফটকে প্রবেশ করতে চাইলে শিক্ষার্থীরা ফিরিয়ে দেন। এ সময় শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়।

গত ১৩ জানুয়ারি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিও সামনে আসে আন্দোলনে।

পরে ১৬ জানুয়ারি বিকেলে তিন দফা দাবি আদায়ে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পুলিশ ৩০০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। ১৯ জানুয়ারি বিকেলে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তার বাসভবনের সামনে আমরণ অনশন শুরু করে ২৩ জন শিক্ষার্থী।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top