১৯৮৮ সালের হত্যাকাণ্ডে রাইসির ভূমিকা নিয়ে তদন্তে জাতিসংঘ


প্রকাশিত:
২৭ জানুয়ারী ২০২২ ২৩:১৭

আপডেট:
১৮ মে ২০২২ ০৫:১০

ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিমর রাইসির বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ। ১৯৮৮ সালে তথাকথিত রেভ্যুলুশনারি কোর্টের মাধ্যমে দেশটির হাজার হাজার গণতন্ত্রপন্থী নেতা-কর্মীকে হত্যায় রাইসির ভূমিকা উদ্ঘাটনই এই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য।

শুক্রবার জাতিসংঘের অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন বিচারক ও তদন্তকারী এক খোলা চিঠিতে আন্তর্জতিক এই সংস্থার মানবাধিকার বিষয়ক দূত মিশেল বেশেলেটের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। সেই চিঠিতে ইতোমধ্যে স্বাক্ষর করেছেন বিভিন্ন সময়ে জাতিসংঘে কাজ করা ৪৬০ জন সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

স্বাক্ষরকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক প্রেসিডেন্ট স্যাং হাইয়ুং সং এবং যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল ক্রিমিনাল জাস্টিস বিষয়ক সাবেক দূত স্টিফেন র‌্যাপপও আছেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা, ইতালি, পোল্যান্ড সহ অনেক দেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ প্রতিনিধিও আছেন স্বাক্ষরকারীর তালিকায়।

গত শতকের আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ইরানে তৎপর হয়ে উঠেছিলেন গণতন্ত্রপন্থীরা, যারা দেশটিতে ক্ষমতাসীন ইসলামী কট্টরপন্থি সরকারের বিরোধী। যুদ্ধ শেষে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার কারণে শত শত গণতন্ত্রপন্থীকে গ্রেফতার করা হয় এবং তেহরানের রেভ্যুলুশনারি আদালত সংক্ষিপ্ত বিচারের পরই তাদের অধিকাংশকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। সে সময় রেভ্যুলুশনারি আদালতের ডেপুটি প্রসিকিউটির ছিলেন রাইসি।

২০১৮ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মানবাদিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, সরকারি তথ্য অনুযায়ী তথাকথিত রেভ্যুলুশনারি আদালতের মাধ্যমে ৫ হাজার গণতন্ত্রপন্থী নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল, তবে বাস্তবে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

জাতিসংঘের খোলা চিঠিতে বলা হয়, ‘ওই হত্যাকাণ্ডে প্রধান ২ অভিযুক্ত- ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেই এখনও দায়মুক্তি উপভোগ করছেন।

২০২১ সালের ১৯ জুন ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। সেখানে সর্বাধিক ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন ইব্রাহির রাইসি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান ছিলেন তিনি।

২১ জুন যখন এক সংবাদ সম্মেলনে রাইসিকে ১৯৮৮ সালের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন উত্তরে রাইসি বলেছিলেন, ‘যদি একজন বিচারক, একজন প্রসিকিউটর জনগণের নিরাপত্তা রক্ষা করে, তখন তাকে পুরস্কার দেওয়া উচিত। আমি গর্বিত যে, জীবনে যে অবস্থানেই আমি থেকেছি- মানবাধিকার ও জনগণের নিরাপত্তাকে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি।’



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top