আনন্দ মজুমদারের ‘কৃষ্ণপুর’


প্রকাশিত:
৪ মার্চ ২০২২ ১১:২৮

আপডেট:
১৮ মে ২০২২ ০৬:১৯

কৃষ্ণপুর

কৃষ্ণপুর- কোমারডোগা সরকারি অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়
কিংবা কুমারডোগা
ইতিহাস লেবার ওয়ার্ডে ঘুমায়, এইমাত্র প্রসব করেছে টুনটুনি
তারই লেজে পৃথিবীর মানচিত্র ছটফট করে
আমি সেই বিদ্যালয়ের ছাত্র
প্রাণপাণিপাত করে সময়, সুর্ষের ফাঁসির মুহুর্ত কবি দেখেছিলো
১৯৭১
ইস্কুলে ভাঙা চেয়ার
টেবিল
ইতিহাসের কোনো শিক্ষক নেই, হয় না
কেঁচোকিলবিল মাটির ঘর, বিদ্যানিকেতন, আমাদের একমাত্র ঠিকানা
ইস্কুলে প্রাণপাঠ করি, আদর্শ লিপি, সবুজ সাথী
১৯৭১
ইতিহাস আমাদের মনন-চিন্তন-দেহজ ভূবনে খচিত
আমি কি জানি না তুমি কে?
জানি, অনন্ত বিদ্রোহী কবি প্রেম ও পয়ারে রাখে যৈবন গীতিকার প্রথম আলেখ্য

আমি সেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র , যেখানে জ্ঞান ছিলোনা, শুধু প্রকৃতি, বিশুদ্ধ

আমি প্রাথমিক পাঠ আজও সমাপ্ত করতে পারি নাই
আজও সবুজ আমার সাথী
বাল্য শিক্ষা আমার সারথী

আদি স্বরের মতোই আদ্যাক্ষর গলায় গ্রন্থিত
পৃথিবীর প্রথম মেখলা বিকালে আমি ছিলাম ধরণীর প্রথম কবি
মনে পড়ছে আজ কৃষ্ণপুর-কুমারডোগা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কথা
মনে পড়ছে সৃষ্টির জন্মের প্রথম ক্ষণ
অক্ষরের আর্তচিৎকার, চিহ্নের উদয়

যে বনে বড়ো হয়েছি, সেখানে আরণ্যক অভিমানে জড়িয়েছি হরিণা জোছনা
মধ্যাহ্ন মদির এক দুপুর, বৃক্ষ থেকে দুলছে বক্ষিলার দেহ, পৃথিবীর সব গল্প শেষ হয়ে যায়
কুচকুচে কালো শিয়াল _ চোখে তার বিড়ালির স্বচ্ছ ভ্রুকুটি_ জোছনা ও রোদ চশমায়
মানিয়েছে বেশ! আমারই নয়ন ছেঁদা করে অবশিষ্ট বিবেক চুকচুক করে খায়!
যে বনে বড়ো হয়েছি, সেখানে নিশি তোমাকেই খোঁজে, পলায়নপর পথের দিকেই ধাবমান
রকাক্ত পদযুগল। আমি ছুটছি, পলাতক পথ যাবে কোথায়? গ্রেফতার করতেই হবে

আমাকে এই সাঁকো অতিক্রম করতেই হবে। কুয়াশার রজ্জু দিয়ে বাঁধা দু’পাড়।আমাকেপাড়িদিতেহবেএইসাঁকো।

আলজিভের তলায় আর্তচিৎ কার ঘুমায়। ভাষাশুন্য এই জিহবা। আমাকে এই জোছনা কুয়াশা মাখা সাঁকো পার হয়ে যেতেই হবে।

হরিণীর শিঙ্গে শিঙে চাঁদ । আমলকি বনে জ্বল জ্বল করে পেয়ারির জগত। আমি তোমাকেই পেয়ার করি হরিণী। এই সাঁকো_পারাপারশুন্য পরপারে যাবার পথ। এই যে দুনিয়ার সব নিশীথ বিজন বনে উলা চাঁদের দোলা। আমলকি বন আজ রুহানিয়াত সম্ভবা।
আমাকে এই সাঁকোসন্ধি অতিক্রম করতেই হবে। রাতের হাওয়াগণ আজ নিঃশ্বাসের বাজিকর। সঙ্গীতের উন্মত্ত উদারা। নিষিদ্ধ বাক্যরাজি উচ্চারণ অধীরা। এই তো মোহিনী মৈথুন_ নিশি রাত হাওয়ায় দুলছে।
শালবন শিহরিত হাওয়ায়। খরগোশ বনে টুনটুনি ঘুরে ঘুরে কী যেনো খোঁজে! আমি চাঁদনী সুন্দর এই নিশীথে বার আউলিয়ার পদচিহ্ন খুঁজি। টুনটুনি খোঁজে অন্ত্রনির্বাণদানা।
শালবন কাঁপছে । বইছে কামনাকাতর খুশবু। মনে হলো, বৃক্ষগণ সিজদারত আর বিরল শিশিরকণা আসমান থেকে তখনই ঝরলো। বসুধাবিদ্যানিকেতনে ছুটির ঘন্টা বাজিতেছে। গোপাটের ঘন্টাধ্বনি এখনো বেজেই যায় স্মৃতিসত্তায়। বৈকালিক বেণুকার ধ্বনি ধ্বনিত হবে না ইতিহাসে আর। আমিও গোপাট ধরে তোমারই খোঁজে বার বার ফিরে যাই।
দ্যূতিদিব্য মোহিনী ক্ষণে তোমাকে অস্পষ্ট দেখি
ফণা তুলে পাহারাদার বিভূতি ভূজঙ্গ
কাঁকড়ি নদীর চোখ ছলছল, তরঙ্গের নিঃশ্বাস ফোঁস ফোঁস করে
নিশীথে ফুটিয়া আছে চন্দ্রমল্লিকা ভাণু
তোমাকে পাবার আশায় আমি এক ধ্যানমগ্ন তমালতণূ

গা ছমছম করে, কোথাও মগিনীর হাসি, কোথাও মগার পুষ্কন্ডির পাড়ে কে যেন ঘুরে
এই তো আড়ালিয়া জলায় তুমুল কমল ফুটেছে
আর ভয় নাই, ব্রক্ষ্মাণ্ডে উদিত হবে নয়া নূরভাণু
এই তো জোছনার পরাগায়ণ হয়ে যায় পুষ্পধানীময়
তোমাকে পাবার আশায় সব ভয় জয় করে হেঁটে যাই বারো আউলিয়ার পথে

মধ্যরাতে হাতিরা বেড়াতে আসে বৈশাখের শেষে
জন্মভূমি প্রদক্ষিণ করে ফিরে যায় অরণ্য গহীনে
আমি চাঁদনীর চন্দ্রহার নিয়ে দাঁড়িয়েই আছি
অচেনা কুসুম ফুটে , আমরাও কামনাকাতর সার্বভৌম সুবাসে
এই সুবাসমৌমৌ ক্ষণে সম্পর্কের পরাগায়ণ, জন্ম হয় দিওয়ানার প্রেম

দিওয়ানা পরাণ লাল ফুল খুঁজে হয়রান
শালবনে আজ মাতাল হাওয়ার কাল
ইচ্ছাপত্রে লিখেছি তোমার কথা
সবকিছু পাবে যদি হও আসমান।।
ফুটেছে কমল লোদে-জলে যার বাস
মূল শাঁসে আছে কবিদের নিঃশ্বাস
দিওয়ানা তোমাকে পরাবেই লাল টিপ
দুই হৃদয়ের মাঝে আছে এক অলীক অন্তরিপ।।
হলুদ ফুলে মৌয়েরা ঘুমায় রাতে
লাল জবাফুল তোমার প্রতীক্ষায়
এই তো সময় দিওয়ানা-দ্বৈত শুন্য
একা ও অনেক অনন্তে অভিন্ন।।

যে বনে মানুষ বড়ো হয়

প্রভাতী প্রভা অলক-ঝলক কিরণ। গর্ভবতী আকাশ তারায় ভরা
কেউ কি কোথাও ওম ওম ঘুম চাষ করে এই দেহে?
খানিক পরেই জাগবে কিরণমালা, সবুজ পাতায় আতপ সালংকরা
কেউ কি কোথাও ছুঁয়েছে পত্র অপার সস্নেহে?
তোমরা যারা স্বপ্ন করোনি শেষ, অনাঘ্রাত প্রেমের সুবাসে নিদ্রামহলে নাচো
প্রেম ছাড়া কি মানুষ বাঁচে! সম্পর্কই শক্তি জেনে এই প্রভাতে ভক্তিরস যাচো।।

কাঁকড়ি

স্রোতের শিহর তণুমনে, ইন্দ্রিয় আড়মোড়া ভাঙে
ঢেঁকির পাড়ের মতো হাহাকার আজ এই কাঁকড়ি গাঙে
গাঙকূলে যতো বাঁক আছে, ভাঙনার যতো ক্ষতলিপি
ইতিহাস দেহধারী হয়, স্রোতেরা সত্য জেনে হয় বিলাপী
আমাদেরও গাঙকূল আছে, স্রোতেলা উর্বশী বরষায়
তির তির মৃদুলা ছন্দের বিনয়ী স্রোতে বইছে আপন ধারায়

এই যে আমার কাঁকড়ি নদী সিপাহীজলায় জন্ম
পার হয়ে এসে পাহাড় টিলা নিভৃত অরণ্য
বঙ্গে এসে প্রবাহ সলিল, তরঙ্গিনী মাতঙ্গ
আমি কি বৃথাই তুলনারহিত কাঁকড়ির গান গাই
কে লিখে কাব্য, কপোতাক্ষ, মধুকবি আর নাই।।

কাঁকড়ির কাছে শিখেছি আমি বঙ্গীয় ছন্দ
পদকর্তার বিলয়ে কবিতা রচেন আনন্দ !
কাঁকড়ির জলে হাওয়ার খেলায় ছোট ছোট ঢেউ
আবহাওয়ার কথা নয়া জমানায় কাঁকড়ি কাহিনী হয়
বঙ্গের মাটি, পেলবপলি, ঘরে ঘরে কাটা ঐতিহাসিক নেউ
বঙ্গে কাঁকড়ি, মিহি পলি রেখে, বয়ে চলে নির্ভয় !

আমি আনন্দ, আমি কবিয়াল, পদকর্তার দাস
নজরুল যদি দোয়া করেন, আমি যে সবার ত্রাস
কাঁকড়ির কাছে শিখেছি আমি নদীতটে রাখা বিদ্যা
প্রথম পাঠেই বুঝেছি আমি নামতে হবে জলে
অমুদ্রিত গ্রন্থ সকল তুখোড় তুমুল অতলে
পাঠকবেশি দরবেশ এক বিদ্যা, বিদ্যা বলে
সর্বনাশা জ্ঞানের সাগরে প্রেম বিসর্জন দেয়।।

ওগো কাঁকড়ি, এখনো বইছো তুমি, শাশ্বত নদী জন্ম স্বার্থক তোমার
পার হয়ে কাঁঠালিয়া, কৃষ্ণ-চকলক্ষিপুর, কুমারডোগা, প্রবাহ অহংকার
হে আমার নদীনাম্নি কাঁকড়ি, আমাকেও বয়ে নিয়ে যাও অনন্ত পরবাসে
পারাপারশুন্য এই রঙ্গিলা জমজ দিগন্তে অনন্ত নৃত্য, বেঁচে আছি যে বিশ্বাসে
তার নাম নিঃশ্বাস নয়; হাওয়া নয় হায়াতের মূলগুণ, অনুগত এই দেহ-মন
তোমাকেই বলে, কাঁকড়ি ! আমাকে নাও ডাকাতিয়া-মেঘনা-মোহনার দিকে
সেখানে মিলন পিয়ারি সখী, গাইছে অবিনাশী সঙ্গীতের প্রথম কলি
সেখানে স্রোতেরা সঙ্গীত হয়, মৃত্যুর ডাক পাড়ে, সেখানে শিল্পের বলি।।


অবেলার অধিকার
১।
নবীন পানির ধারায় ধারায় খাড়া কৈ কান খুবই মনোযোগী
চঞ্চল জল খৈ খৈ ঢেউ কিছুটা রাগিণী মাঝে মাঝে তেজী
প্লাবন শ্রাবণী_ কবিতা তখন আপন শরীরে দেয় দেখা
একখানা পাতা পিঁপড়ার নাও, উজানিয়া ধারা প্রাণ কাতরতা
এই অবেলায় এতো যে রোমাঞ্চ রোমকূপ ফুঁড়ে অনাবাদী প্রেম
তিন চাষ দেয়া জমিনে ফুটেছে নিভৃতনের বর্ণালী ফুল।।

২।
এই অপরূপ সাঁঝবাতি ঘর আপন আলোয় জ্বলছে শিখা
নিজেই অধীত বিষয় পাঠ্যসূচীর পাই না দিশা, মন মনীষা
বীজে যখন আসে জালা গর্ভ ভরা ঘুম জাগে, নিদ টুটে
জনম জলে সাঁতার কেটে জঙ্গা থেকে জাহ্নবীতে, ছলছল
অরুপের স্বরুপ দেখো রুপ নিহারি, মুদিত নয়ন ভাব তন্ময়
কিসের তুমি রুপের কারবারি_ অরুপ দেখাও রুপ নাহি চাই।।
৩।
অরুপ খোদিত থাকে রুপরঙ্গিলা নাচে, দেখো, ত্রিভঙ্গ তালে নাচি সুরের শীর্ষে
নাচের তালে তালে জগত উতালা, বিহঙ্গ ভঙ্গী হয়ে উড়ে উড়ে মহাবিশ্বে
গহীনের গতি পাঠ করি। অস্থিতিশীল দিগন্তের সীমায় চোখ, কিছুই দেখে না
একটি অখণ্ড সম্পর্ক ডোরে আচক্র চখা হই। মহাবিশ্বের সকল গুণ, ধাতু ও ভাব
এই দুনিয়ায় বিরাজ করে। তাই ধাতব ডানা ঝিক মিক, নির্গলিত ক্ষীর পান
যাত্রা শুরু। উড়ি ও আনন্দময় গতিগোত্তা_ সাতাশ ভাগ ডার্ক ম্যাটার
থেকেই আমার ডানা, যা দেখো বস্তময় তা’ পাঁচ ভাগ মাত্র।
বাকী ভাগ আছে এই গতিময় ডানায়_ দুনিয়ার মাঝ দিয়া চলে যায়
আমার কেশ মূল; দুনিয়া বড়ো জটিল, তবে সম্পর্কের চুলায় ভাত উতরায়
ফেন গড়ায়, তরকারী পুড়ে ছাই। আহা! পৃথিবীকে প্রতিদিনই গোল মনে হয়
তাই গোত্তা খাই; গড়িয়ে গড়ায়ে জীবন চলে_ উত্তর মেরু ধরে মাফলার ছাড়াই
ঘুরি_ হুদাহুদি, জানি না কিছুই, তবুও ভাব ধরা হয়; না জানিলে জীবনের কী হয়!
চিকুরচিকমিক জটাই ডার্ক ম্যাটার। প্রতিসরণ বিরুদ্ধ। ধাতু ধাতস্থ নয়_ টলমল
৪।
সম্পর্ক ক্ষুর ।কাটছে, ছিলছে; শাণিত ক্ষুর হুমকি দেয়
ছায়াই বিমূর্ততার প্রতিমূর্তি । যুবকেরা শহরের দীর্ঘশ্বাস বুকে নিয়ে
হাঁটছে_ দিশাহারা পথে।


অশ্রুরেখার তীরে

নিদ্রার অহমিকা নাই। এমন কর্কশ অপবিত্র নীরবতা
রাত্রির লোমশ হাত, ভয়ংকর আলো, রাজপথে একাকি
জ্বলে; পাখিগণ ভোরে অযান্ত্রিক কোলাহল প্রিয়_ বেসুরো
কাক কোথায় নির্বাসিত! নিশাতুর রাত ঝিমায়_ আধখাওয়া
প্রকৃতি _ মানুষের সঙ্গদোষে নিজের স্বভাব হারায়;
পাখিরা গাইছে আজ মানুষের গান; উড়ালিয়া হাঁস খোঁজে শিকারি
অসম্পূর্ণ আসমান নিজেকেই রাঙায়, সকাল সন্ধ্যায় আপন রঙে
মানুষ ছাড়া কে দেখবে তোমার রূপ , হে পরম প্রকৃতি।
অশ্রুরেখার তীরে তাই অবেলায়, অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্ধ্যায়
আদিগন্ত মেঘের গোঙানি শুনি। যেন নদীরা গাইছে আজ
খরবেগী সুরে মানুষের গান। মহাবয়ানের কাল ফের ফিরে আসে।
অশ্রুরেখা দিয়ে আঁকি পৃথিবীর মানচিত্র; দুনিয়ার চিত্রলিপি
আঁকা অসম্ভব। প্রাণ আছে, আছে জীব ও জীবাণু_ আছে
অনুপ্রাণ, কীট _ জৈব ও অজৈব জগত একসাথে কাঁদে আজ
মানুষের মহাশ্মশান। আমি কাঁদি, তুমি কাঁদ, রোদন বসুন্ধরা!
ছন্নছাড়া সময় এখন। মহাকালের মহাশ্মশান। নদীরা আদি জটার কাছে
ফিরে যায়।


নীরব
সবকিছু চুপচাপ
অবিনাশী সঙ্গীতের কলি ফুটে আছে
নিঃসঙ্গ আলো
এখন পৃথিবী শুধু গাইছে গান
ভয়াল নিরালা বিজন_ স্বয়ম্ভু আওয়াজ _ দুনিয়ার আদিগন্ত আদি
সবকিছু অনাদির আদি হয়ে ফের বর্তমান
সবকিছু ঝিম ঝিম
পরবাসী মানুষেরা গুমোট ঘরের ভেতর বসে বসে
মরণতাড়ুয়া গান গায় অবশেষে
কিন্তু আমার অনেক কথা আছে
এখনই বলার সময়
মানুষকে বাঁচাতেই হবে
কথা দিচ্ছি দয়াল আমার
সব্বাই প্রাথমিক পাঠ নেবে বসুধা বিদ্যানিকেতনে


লড়াই
জৈব ও অজৈব জগতের ভেদ ফয়সালা করে মনুষ্য স্বভাবের দোষ কাটালেই জয়
প্রজ্ঞামতি আনন্দ শিহরণ দেহে স্থায়ী হয়
প্রাণময় সবকিছু _ এই দুনিয়া শুধু মানুষের নয়
আছে অণুজীব, অদৃশ্য প্রাণ কণা, আছে আরো জড় ও জীবের ঘরে অজর অদৃশ্য প্রাণরাশি
আমার দেহের সাথে নতুন করে চিন-পরিচয় চলছে
জীব বিজ্ঞানের পরিসীমার বাইরে পরমার্থিক সম্ভাবনায় আমি প্রকৃতিপুষ্ট
মানুষ প্রকৃতি, অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের ডোর টুটে গেছে, ছিন্নভিন্ন ছত্রখান অজস্র অস্তিত্ব

অস্তিত্ব অন্তরালে যায়
এখন মরণ বিদ্যা শিখছি
ফুলের গর্ভধানে ফের জন্ম হউক আমাদের
পুষ্পপ্রাঞ্জল নিশ্বাস ছড়িয়ে যাক, হায়াতের সঙ্গীত প্রার্থনা কাতর

এখন সৃষ্টির আদি নীরবতা
এখন অন্ধ গায়কের অবিনাশী গান
স্নায়ুরজ্জু বেয়ে মুদারায় মৌন স্বরলিপি
এখন মরণ পর্যালোচনাই দার্শনিকতা
জানি অনন্ত রূপের বিলয় নাই


আউটবুক
কারখানাগুলো এখনও সূর্যের আলো ক্যান করে এনার্জি বিক্রি করতে পারে নি
নজরদারির চোখগুলো উপরে কিংবা উন্নাসিক চারপাশেই থাকে
কী করে লিখবো? নিজের সেন্সর বোর্ডে নাক, চোখ, কান, কিছুই নাই
ত্বকও নাই
সক্রিয় তৎপরতার নির্মম আত্মহনন প্রক্রিয়ার ভেতর
বর্ষা নিয়েই কবিতা হউক
কারখানায় বাস্তবতা উৎপাদন হয়
আলোকবর্ষ দূরের স্বপ্নকাতর কবিবাসনা
বিসর্জন দিয়ে
হাতে নিজের কলিজা নিয়ে ঘুরে বেড়ানোই উত্তম
এখন ইতিহাসের মগডাল থেকে
চিক্কুর পাড়ার সময় ।।

২।
লাল জামা ও সাদা টুপি
তোমাকে মানিয়েছে ভীষণ
কর্তব্যপরায়ণ মেঘ ঝরতে একটুও দিগদারি নয়
রক্তের ফোঁটাগুলো বেশ কয়েক বছর ধরেই আসমানে জড়ো হয়
নজরুলের সিন্ধু কবিতাই জল-হাওয়ার নতুন বিজ্ঞান
মধ্যরাতের দুষ্টুমির মধ্যেই মেঘ তুমি সন্ধিপরায়ণ মোহনায়
দেখা দিয়েছিলে

যে সকল অন্য কারণে আমাদের দেখা হয়
তা শুধু জানেন তিনি…।

৩।

ইতিহাসের টার্ণ টেবলে মিউজিক্যাল চেয়ারের
গান বাজে না
সত্য স্বয়ম্বর সভা বাদন বিধ্বস্ত
মেঘ বৃষ্টি হয়ে উঠতে খুব পরিশ্রম করছে
বিগার বিষন্ন এই সময়
দিলে আবাদ করি তোমারই নাম
আমার চারপাশে এতো এতো চোখ
নিঃশব্দ আকাশে একটি পাখিই প্রধান পরখ বাস্তবতা
আবাদ করি নয়ন

নয়নতারা
এবং
পালটা নজরদারি
শাপমোচনের কালে ঐতিহাসিক রাগমোচন
অপরাপর সকল নজর, চোখের বালি
বিপ্লবমুখর দহনস্নিগ্ধ চোখে নজর লাগবেই না

আমরা আদমের শেষ বংশধর

আমরাই আদমের শেষ বংশধর
ফুল হয়ে ফুটবো ফের প্রাণ মহিমায়
সপ্রাণ স্বভাব হয়ে কেউ যদি বলে, সাত ভাই আমার এক চম্পা হয়ে আছে
সাত পুষ্প ফুটে আছে মহিমার ইংগিতে
আমরাই আদমের শেষ বংশধর
এমন ভ্রমর বিজনক্ষণ, দুনিয়ার নিঃশ্বাস ছাড়া আর সব বিরল নীরব
জানি তুমি ডাকবে আবার, অনাদির আদি স্রোত বইবে নিশ্চয়

অবশেষে ফুল ফুটলো
চম্পা ফুটেছিলো বলে, সাতভাই জাগে আজো বোনের ডাকে
ফুল হয়ে ফুটে প্রাণ ফের মহিমায়, মানবের শাখে শাখে
বঙ্গজ অঙ্গ শোভায় কান পাত, শোনা যায় সাতভাই চম্পার জাগরণ
দশ ডালে দশমী পুষ্প, ঘিয়া শুভ্র রঙ, প্রস্তাবিত হয় জননীর প্রস্ফূটন।।

যে ফুল ফুটে রাতে, সেই ফুল লজ্জাবতি, রজনীর কান্তি তার দেহে মিশে যায়
যে ফুল দিনে ফুটে, সেই ফুল দিনান্তের লালিমায় সূর্যের শেষ কোমল মঞ্জুষায়
ঝরে পড়ে_তবুও সাত পুষ্প ফুটে থাকে মহিমার ইশারায়, জমজ দিগন্ত জুড়ে।।

অবশেষে ফুল ফুটলো, অগোচরে_সলাজ কুসুম শুধু চোখ মেলে তাকায়
দশ ডালে ফুটে আছে সুরভিত মহিমা, এতো সাদা, রাশি রাশি পবিত্র সম্ভাবনা।।

আমরাই আদমের শেষ বংশধর_ফুল হয়ে ফুটবো ফের প্রাণ মহিমায়

সপ্রাণ স্বভাব হয়ে কেউ যদি বলে, সাত ভাই আমার এক চম্পা হয়ে আছে
দশটি কুসুম ফুটে আছে মহিমার ইংগিতে, সপ্রাণ সজীব সত্তা বৃক্ষে শুধু দোলে
আমরাই আদমের শেষ বংশধর, এমন ভ্রমর বিজনক্ষণ, তবু তুমি পুষ্প চিরজীবি
দুনিয়ার নিঃশ্বাস ছাড়া আর সব বিরল নীরব ,জানি তুমি ডাকবে আবার
অনাদির আদি স্রোত বইবে নিশ্চয়, আবারো উঠব জেগে ফুলেল স্রোতের ধারায়।।

যুবকের দল ঈর্ষার ঐশ্বর্য্য নিয়ে কবে যে পাখা খুলে ঘুরবে শহরে
যুবকের দল কবে নির্বীষ ঈর্ষাহীন পুরাদস্তর গোলাপ হবে
সিনথেটিক গোলাপ জামই গোলাপ ও জামের মরণ দেখাবে
কী করে আগেই মৃত্যু হয় আজন্ম জন্মের, চিনে রাখো যুবক রাতের।।

জন্মান্ধ নাগর কবে চিনেছে কি উপায়ে বিনাশী প্রেম
মৃত্যূ হয়েছে অনাগত অপেক্ষার, সুবাস শিথিল পুষ্পকলির
মেদিনীমণ্ডল মাঝে আদম উদয়, তার কাছে সব কিছু ভাবে মূর্ত হয়
অনাথ আকাঙ্খা যুবক তোমাকেই চায়, তোমারই আদরআদ্র ওমে মহাকাল
ঠিক চিনে রাখে তোমারই কপালের সূর্য, ঠোঁঠে ঠাই অবিনাশী সঙ্গীতের প্রথম কলি
মহাকাল! চিনে রাখো যুবকের মুখ, রুপ তার ইতিহাসে বার বার ঠিকরায়
অনন্ত বৈশাখের ঝড়ে কালের ঘুড়ি সে উড়াবে নিশ্চয়ই।।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top