আনোয়ার শাহাদাতের গল্প

বিছানায় বীচিকলা ঢেকে দেয় মুখ ও শিরোনাম


প্রকাশিত:
১২ এপ্রিল ২০২১ ১৯:৪৮

আপডেট:
১৭ মে ২০২১ ০৫:৪৩

দু’পক্ষের ঝগড়া তখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে বাংলা মটরের মোড়ে যখন কিনা সেখানে রাস্তা পারাপারের জন্যে আটকে পরা লোক জনের ভীর জমে যায় কেনোনা দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সোনারগাঁ হোটেলের দিক থেকে আসা গাড়ী গুলোকে যাওয়ার জন্য তেরো মিনিট একতিরিশ সেকেন্ড দাঁড় করিয়ে রাখে এবং তারই ফলে তখন সেই ভীড় জমে যদিও সেই ভীড়ের কোনো আগ্রহ থাকেনা পুষ্পধাম নামক দোকানের সামনে বাংলামটরের কোনো এক কোনায় একজন কলা ও আপেল বিক্রেতার মধ্যে ভিন্নমত, আলোচনা, তর্ক-বিতকর্, এমনকি যাকে ঝগড়াও বলা যেতে পারে তার প্রতি এবং সেই ঝগড়া বা বিবাদ বা যাই বলা হোকনা কেন তা চলা কালে অর্থাৎ ঝগড়া চলা কালে যখন কিনা কলা আপেলকে বলে- আরে বেডা বড় কতা কয়, তোমারে চিনিনা ? চিনমুনা কেয়া ? কি প্রসঙ্গে কলা ওয়ালা ওই কথা বলে তা খুব স্পষ্ট নয় তবে ‘কলার’ ওই ক্ষোভ মিশ্রিত কথার উত্তরে ‘আপেল’ও অনুরূপ চড়া গলায় আবার প্রশ্ন করে, কি চেনো আহ্ ? কি চেনো ? ‘কলা’ এবার তার প্রতি-উত্তরে বলে তুমি ক্যালা বেচ্তা, ক্যালা ; কলাওয়ালা একথাটা বলবার পর এক সেকেন্ডের পচিশের সাত ভাগ সময় বিরতি নেয় বা তার কথা বলার ভঙ্গীই ওইরকম যে বাক্যের মধ্যে ওই পরিমান সময় বিরতি পরে, এবং ওই বিরতির পর বলে- ক্যালার মুহে আবার বড় কতা! আহ্! বড় কতা ? কলা ওয়ালার ওই কথায় তখন বোঝা যায় ‘ক্যালা বেচ্তা’ তথ্য আপেলের বর্তমান আভিজাত্যে ও উচ্চ শ্রেনীতে সামান্য হলেও সম্ভবত, হয়তো সম্ভবতই অথবা সত্যই আঘাত করে, সে কথা আরো বোঝা যায় এই ভাবে যে, সেই আঘাতের প্রতিক্রিয়ায় শ্রাবণ মাসের উচ্চ-ঘন-জলীয়-বাষ্প সমেত গরমে আপেলওয়ালার গলা, গাল ও কপালে যেন তড়িৎ ঘাম জমে যায়, যে ঘাম কিনা সল্প জলীয়বাষ্পের মরু অঞ্চলের কোনো জ্যাকুয্যি নির্মিত সুইমিং পুলের মধ্যে কৃত্তিমভাবে সৃষ্ট বুদবুদ থেকে সরবরাহকৃত হট স্টিমে ভিজে যাওয়ার মত। ঘাম-রাগ, ঘাম-ক্ষোভ সে যে উপসর্গই হোক তা সত্ত্বেও ভলতেয়ার তত্ত্ব অর্থাৎ এখানে মত প্রকাশের অধিকার তত্ব সক্রিয় থাকে, ‘আপেল’ সেই জ্যাকুয্যির হট স্টিমের মত ঘাম নিয়ে প্রতি উত্তর করে, কোথায় কি আর কোথায় কি? কলা সম্ভবত এ কথার গুরার্থ ধরতে পারেনা তেমনটি বুঝতে পেরে আপেল আবারও তার সমস্তগায়ে সেই ঘাম নিয়ে আরো পরিস্কার করে বলে- কোথায় রাজ-রানী আর কোথায় বুড়া-চুতমারানি ? অর্থৎ কিনা কোথায় কলা আর কোথায় আপেল ? এখন এই পরিস্কার ইঙ্গিত ‘কলা’র কাছে স্পষ্ট হয় এবং সে তার উত্তরে এবারে বলে, আরে মেয়া ক্যালা ; হ্যাও আবার বীচি ক্যালা, আইট্যা কেলা, আইট্যা ; কলাওয়ালার সাধ্য মত তার ভাষা প্রয়োগের সকল মেধাই ব্যবহার করা হয় তা বোঝা যায়, এবং এর পরবর্তী প্রতিক্রিয়া দেখলে স্বভাবতই আরো বোঝা যায় যে আপেল আহত হয় ওই বিচি সহ কলা বিক্রির কথা উল্লেখ করায় যা কিনা তার কাছে হয়তো অপবাদ অথবা অপমানের কিংবা অমর্যাদার বা এই রকমই কিছু। বিবাদ ও প্রকাশ ভঙ্গীর এইজাতীয় তথ্য ভিত্তিক ভাষ্য বিনিময়ের মধ্যে আপেলওয়ালার কলা বিষয়ক কোনো এক অতীত সম্পর্ক অস্বীকারের ঘটনা ঘটে যার ফলে তার জীবনে একটি সত্য তথ্যের সঙ্গে তার ব্যাক্তিগত বর্তমান ইতিহাস বিচ্ছিন্নতা তৈরী হয়, যা অবশ্য মাক্রীয় তাত্ত্বিক বিশ্লেষনে একটা সমষ্টিগত ব্যাখ্যা দাড় করানো গেলে তা যেতেই পারে কিন্তু তা ঘটনা বর্ননায় অত জরুরী নয় বিধায় একথা বলা যায় যে আপেলওয়ালার এই যে ইতিহাস ও সত্য বিচ্ছিন্নতা হয়তো তা ‘সুশীল’ সমাজের চোখে কিনা ‘তাত্ত্বিক’ ; অবশ্যা তা শুধু সুশীল সমাজের কাছে কেনো সমাজের ‘চোখ নাই’র কাছেও তা ‘তাত্ত্বিক’, অথবা তা ‘চোখ নাই’র কাছে তাত্ত্বিক হলে হতেও পারে আবার নাও হতে পারে, সেসব বাদ দিলে যা উপরন্তু বোঝা যায় তাহলো যে ওই সব ‘তত্ত্বে’ আপেলওয়ালারা চলেনা বিশেষ করে যখন কিনা এই বিবাদে কলাওয়ালা নিন্ম শ্রেনীভূক্ত বলে চিহ্নত এইখানে, অতএব সে হয়তো এই ধরনের অপবাদ শুনে ভেতরে আরো ক্ষুদ্ধ হয়, শ্রাবনের ঘাম আরো তাকে ভিজিয়ে ফেলে, পাশে রাখা সিলভারের ঘটির পানিতে হাত ডুবিয়ে সে হাত তুলে আনে, সম্ভবত কর্তব্য ও অভ্যাসবশতই সেই আঙ্গুলে লাগা পানি আপেলের উপরে ছড়ায়, এরপর হাত দিয়ে তার ওই ভেজা দু’গাল ও কপালের ঘাম মোছে, তাতে হাত ও আঙ্গুলগুলো আবারও ভিজে যায় ঘামে যেমনটি সিলভার ঘটিতে রাখা পানিতে তার আঙ্গুলগুলো ভিজেছিল, এবারে ঘামে ভেজা সেই আঙ্গুল হতে আগের বারের মতই আপেলের উপর ছিটায়, আপেল ভিজে যায়, ভিজে যায় জলে ও ঘামে, ঘামে ও জলে।
‘শ্রেনী বৈষম্য’ তখনো দু’পক্ষের মধ্যে সম্পুর্ন স্পষ্ট হয়নি বলেই ধরে নেয়া হচ্ছে; যখন কিনা আপেল ওয়ালা তার ভাদ্র মাসের কপালের ঘাম নির্দেশনা আঙ্গুলে কুড়িয়ে এনে বুড়ো আঙ্গুল সহযোগিতায় ঘামজলবিন্দু পাঁচ আঙ্গুলের ছটায় ছড়ায় আপেলের উপর। কিন্তু শ্রেনী বৈষম্যের উৎস ও প্রকৃত তথ্য ও ঘটনা কিভাবে তত্বের আওতাভূক্ত ও কার্যকরী হয়ে ওঠে সেটা জানা হয়তো এক্ষেত্রে জটিল বা এমনও হতে পারে তা খুব জটিল নয়।
কলা ও আপেলওয়ালা তাদের এই কথিত বানিজ্য পসার নিয়ে বসে নিউ ইস্কাটন থেকে আসা রাস্তাটির যে দিকে আমেরিকান কোনো শহর কি কোনো রাস্তার কি কোনো ব্যাক্তির কি কোনো ইউনিভার্সিটির নামে নাম এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় ভবন নির্মিত হচ্ছে তার উল্টা দিকের কোনায়, তাকে প্রকৃত অর্থে ফুটপাত বলা যায়না কিন্তু তারপরও তা ফুটপাতই, ফুটপাত ছাড়া বলবার আর কিছু যে থাকেনা, সেই ফুটপাতে তারা বসা অর্থাৎ কলাওয়ালা ও আপেলওয়ালা, তারা মুখোমুখি দিক করে একে অপরের বিপরীতে, ওভাবে বসবার ফলে তাদের মাঝখানে যতটুকু ফাঁকা থাকে সেইটুকু ফাঁকার মধ্যে দিয়ে একজন পথিকের হাটবার সুযোগ থাকে কিন্তু সেতো কেবল একটি সত্য কথা কিন্তু বাস্তবে সংখ্যায় সব মিলিয়ে কত যে জন সেই ফাঁকা দিয়ে হাটে তার কোনো ইয়ত্বা থাকেনা, তো কতজন যে হাটে এমন ‘আদম-সুমার’ বা সংখ্যা জরিপ আমাদের অর্থাৎ বাঙ্গালীদের অর্থাৎ বাংলাদেশীদের পোষায় না যে সবকিছুতে জরিপ করতে হবে এবং একটি সংখ্য নিয়ে কষাকষি, ঘষাঘষি করতে হবে। কলা বিক্রেতার সামনে তিন ধরনের কলা- শাগর কলা, শবরী কলা, বীচি কলা; বীচি কলাই বা আজকাল এই ঢাকার শহরে কেনো, কে বা কারাই তা খায় সেসব প্রশ্ন উঠলে উঠতে পারে, ইত্যাদি সব পরেও দরে নেয়া হচ্ছে হয়তো বানিজ্যিক নিয়মেই বীচি কলার অস্তিত্ব ও বাজারজাত, এরপর থাকে শবরী কলা, শবরী কলার পারিমান শাগর কলার পরিমানের চেয়ে কম, আর সাগর কলা সব মিলিয়ে পৌনে পাঁচ ফালা, হালির হিসাবে উনিশ হালির মত হবে, শবরী কলা সাড়ে ছয় হালি, আর বিচি কলার পরিমান বা সংখ্যা এখানে কোনো ব্যাপার নয়। কলাওয়ালার লুঙ্গি কুচকানো, দলামোচা করে অন্ডকোষের দিকে গুটিয়ে ঠেলে রাখা হয়েছে, গায়ে পায়ে সর্বত্র ভাদ্র মাসের জলীয় বাস্প জমেছে যাকে কিনা ঘাম বললেই সহজ ভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে, কোনো রকম জুতা স্যান্ডেল বা স্পঞ্জ ছাড়া দু’পায়ের উপর আলগা বসা, বাম হাত হাটুর উপর দিয়ে ঝুলে থাকা, ডান হাত কারন ছাড়া কলা থেকে কলান্তরে পরশে গর্তে থাকে তা ব্যাধি-বাতিকের মত; আর আপেলওয়ালার সঙ্গে এর ফাকে ওই বাক-বিতন্ডা হতে থাকে যদি তাাকে বাক বিতন্ডা বলা যায়। সেই বাক বিতন্ডা কি কারনে কি দিয়ে শুরু হয় তা তো কোনো পথিকের জানার উপায় থাকেনা, এবং এখানে তা জানার দরকারও পরেনা।
কলাগুলো বিছানো একটি দৈনিক পত্রিকার প্রথম ও শেষ পাতার উপরে অর্থাৎ ডাবল ডিমাই সাইজের নিউজ প্রিন্ট কাগজটা ওই অর্থে উপুর করা, কলার বিছানা বা পাটি হিসাবে ব্যাবহৃত বলে তাকে সংবাদ প্রত্র না বলে নিউজ প্রিন্ট বললেই তা অনেক বেশি লাগসই এখন, সেই উপুড় করা কলার পাটি-বিছানা তুল্য কাগজের প্রথম পাতায় ব্যানার হেডিংএ বাণীর মত যা ছাপা রয়েছে তার বিষয় ‘বিশাল গনতন্ত্র ও সুশীল সমাজ’ সংশ্লিষ্ট, ওই বানী প্রধান শিরোনামের ঠিক নিচে ডান দিকে আট ইঞ্চি বাই ছয় ইঞ্চি মাপ সমান একটি ছবিতে একজনকে অথবা কয়েকজনকে দেখা যায়, যদিও সেই ছবিতে থাকা লোক কি লোকেদের মুখ দেখা যায়না, কারন সামান্য বীচিকলা, অর্থাৎ বীচিকলা’র ঢাউশ পাছামোটা আপত্তিকর সাইজের কারনে সেই মুখ ঢাকা পড়েছে বা এভাবেও বলা যায় বীচিকলা সেই মুখ ঢেকে দিয়েছে কিন্তু ছবিতে ঢেকে যাওয়া মুখ ও মুখেদের দেখা না গেলেও পরিধানের জামা দেখা যায়, বলা ভাল সে স্পষ্টই দেখা যায়, জামার রং যাই হোক সে খুব ঘন ও গার, এবং সেই রঙ্গের কাপড় অবশ্যই ‘মরা গরু’র চামড়ার মত মোটা, ঘন বর্ষা-বৃক্ষরাজী ধরনের ছাপার রঙ্গের জামা, সে ছাপার রং ও ধরন ও গরন ছাতন গাছের নতুন পাতা ও তার কান্ড ওই পাতা বিহানোর সময় যে রং ধরে সেই রঙ্গের মতন, বিভিন্ন দেশে এমনকি যথা গনতান্ত্রিক দেশ সমূহ- আমেরিকা, বৃটেন, ভারত ফ্রান্স কি জার্মানের সৈন্য-সমান্তরাও ওই রঙ্গেরই পোষাক পরে থাকে। এবং যেমনটি সেইসব নিয়ে যে কোনো দেশের মাঝারির চেয়ে একটু নিচের গল্পকার বা কবি বলেন ‘গনতন্ত্রের সেই পোষাক সেই পোষাকের গনতন্ত্র‘ ; সেই বলায় অবশ্য কোনো দোষ থাকার কথা নয়, দোষ থাকেও না, অর্থাৎ নিঃশর্ত মেনে নেয়া ‘পোষাক ও গনতন্ত্র একসঙ্গেই যায়’ বা ‘গনতন্ত্র ও পোষাক প্রায় সর্বদা সমান্তরাল’ এবং ইত্যাদি কতকি, কত যে কি।
তো ওই বর্ষা-বৃক্ষরাজি আমাযোন বন তুল্য ছবি ‘সুশীল সমাজ’এর সংবাদ পত্রে ‘আসে’, হেটে তো আর ‘আসে’ না অর্থৎ ছাপা হয়, সেই সংবাদ পত্রের সেই অংশটুকুই অর্থাৎ ছবি খানার উপরভাগ কলা ঘরানার অবহেলিত গ্রামীন দরিদ্র লোকের কলা বলে পরিচিত সেই বীচি-কলাই কিনা সক্ষম হয়, সক্ষম হয় ওই সব ছাতন গাছের পাতা রং পরিধানের বদন কি তোক্মা খানা ঢেকে দিতে।
যদিও এই তিন ধরনের কলা বিক্রেতার নগদের শ্রেনী-শত্র“ আপেল ওয়ালার অবস্থা মোটেই খারাপ বলা যাবেনা কলার তুলনায় বরং ধনতন্ত্র, অসাম্যবাদ, অসমাজতন্ত্র, সাম্রাজ্যবাদ ও এই জাতীয় যতসব বিপ্লবী ও বিপ্লবী ধারনা প্রতি-ধারনাসমূহ যা সব প্রচলিত আছে তা এখানে খুবই স্পষ্ট, সঙ্গে এক পক্ষে কৌলিন্য র্চ্চাতো থাকছেই, যেমন তার অর্থাৎ আপেলওয়ালার পরনের লুঙ্গি দু’হাটুর বাটি পর্যন্ত প্রায় ঢাকা-ঢাকা অবস্থা যা কিনা ব্যাক্ষা করলে দাড়ায় যে তা আভিজাত্যেরই অংশ হিসাবে কাজ করছে অর্থৎ লুঙ্গি কি আশ্চর্যভাবে নিচের দিকে নেম উপরের দিকে জাতে উঠছে! কি উঠতে চাচ্ছে, কলাওয়ালার মত তা অন্ডকোষ কেন্দ্রিক না হয়ে হাটু ও নলা কেন্দ্রিক এবং যা কিনা একদিন হয়তো পাজামা প্যান্টের দিকে যাবে ‘ধনতন্ত্রের’ অতি সাধারন নিয়মে, আপেলওয়ালার গায়ের গেঞ্জি খানা ছত্রাকের ফলে নতুন এক ভিন্ন রং ধরলেও কোনো এক কালে সে যে সাদা ছিল তা যে কোনো অনুসন্ধানী চোখ সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারে, সে আলগা পায়ে বসা নয়, পাছার নীচে প্লাস্টিকের জল-চৌকি, অটোবির পাশের রাস্তা থেকে কেনা, দুটো ছোট্র শাজিতে গোটা ক’য়েক করে আপেল সাজানো, এক জাতের রং লালচে ও অপরটি সবুজাভ, সবুজ জাতের আপেলের পাশে তিনটে নাশপাতি, সেগুলো তুলনায় দেশী ডালিমের চাইতে বেশ বড় রাওয়াল পিন্ডি থেকে করাচী হয়ে এসেছে চোরা-চালান নিয়মে ভারতের উপর দিয়ে রবি ট্যাগোরের শহর হয়ে, এছাড়া বেচা-কেনার টাকা রাখবার জন্য আপেলের মানি ব্যাগ আছে তা চামড়ার নয় রেক্সিনের, আর ‘কলা’র টাকা রাখা হয় সেই দলামোচা করে রাখা লুঙ্গির কোচায়। এই হচ্ছে কলা ও আপেলের মধ্যে দৃশ্যত কি অদৃশ্যতঃ প্রাতিষ্ঠানিক তফাৎ যাকে কিনা এস্টাবলিশমেন্টের তফাৎ বলা হলে তা অধিকতর উপোযোগী ধরা হবে রাজনৈতিক পরিভাষায়। পুরোনো কালের মাক্সীয় কি একালের গ্রীনস্প্যানীয় সে যে মতেই হিসাব করা হোকনা কেনো এই বানিজ্যে কলাওয়ালার মূলধন ডলারের হিসাবে এক ডলার ছিয়ানব্বুই সেন্টস্ আর আপেল ওয়ালার সর্বমোট মূলধনের পরিমান প্রায় ছয় ডলার সাইতিরিশ সেন্টস্ যখন কিনা প্রতি ডলারের সংবিধানের চেয়ে একটু বেশি সময়সীমা অতিক্রান্ত সরকার নির্ধারিত মূল্য সত্তুর টাকা সত্তুর পয়সা, এ ছাড়াও আপেলের দুটো শাজি ও সেই শাজিতে কাগজ কাটা থেকে উৎপাদিত খড় ও রেক্সিনের মানি ব্যাগ তা বিক্রি-বাট্রার টাকা রাখার জন্য যা কলাওয়ালার নাই এমন কি পুরোনো কাপড়ে বানানো খুতিও না। সম্পত্তি ও মূলধনের এই ব্যবধানের কারনেই এখানে ধনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার উপসর্গ হয়তো শক্তভাবেই প্রতিফলিত হয়, যা এই রকমঃ কলার ভেতরে প্রলেতারিয়ানের অনুভূতি ও ক্ষোভ, হয়তো কোনো একদিন তা ওই আপেলের দিকেই যেতে উদগ্রীব, আর আপেলের ভেতরে কলার তুলনায় অধিক অর্ধ ও আভিজাত্যের কারনে ভেতরে ভ্রন হয় এক অহম বোধ জন্ম নেবার ।
এক পর্যায়ে ট্রাফিক পুলিশের বাঁশিতে ফু’ পড়ে সবুজ বাত্তির ইঙ্গিত হিসেবে যদিও এর আগে কমছে কম ষোলোবার কি কিছু বেশিবার কি কিছু কমবার ওই রকম বাত্তি জ্বেলেছে নিভেছে, পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু তাতে পথচারীরা পারাপারের কোনো অধিকার পায়নি যতক্ষনে না পুলিশ তার বাঁশীতে ফু’দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে যে এই হলো পথচারী পারাপারের সবুজ সংকেত, তখন পারাপারি পথচারীদের পেছনে পড়ে থাকে কলা ও আপেলের শ্রেনী বৈষম্য ও দ্বন্দ্ব বা তাকে অন্য ভাষায় যা কিছুই বলা হোকনা কেন।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top