সত্যজিৎ রায় আমার কথা শুনে খুব বিব্রত হয়েছিলেন

সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে কিছুক্ষণ


প্রকাশিত:
৪ মে ২০২১ ১৭:২৫

আপডেট:
৪ মে ২০২১ ১৭:২৯

সত্যজিত রায়ের বাসায় মৃত্তিকাসহ কবি
আমাকে সত্যজিতের খুব একটা পছন্দ হয়নি। তিনি আমাকে পাত্তা না দিয়ে সারাক্ষণ কবি শামসুর রাহমান ও কবি আল মাহমুদের সঙ্গেই কথা বলছিলেন।ব্যাপারটা আমার ভালো লাগার কথা নয়। লাগেও নি। আমার মাথায় তখন একটা দুষ্ট বুদ্ধি চলে আসে।
আমি পশ্চিমবঙ্গের নামীদামী বুদ্ধিজীবীদের দুর্বলতাটা জানি। তাই সত্যজিৎ রায়কে উদ্দেশ্য করে বললাম-- আচ্ছা স্যার, আপনি শামসুর রাহমান ও আল মাহমুদের কোনো কবিতা কি পড়েছেন?
দুএকটা কবিতার নাম কি মনে পড়ে?
তিনি আমতা আমতা করে বললেন, না আমি শুনেছি এঁদের কথা, আমার কবিবন্ধু সুভাষের ( কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়) কাছে শুনেছি। ও বলেছে এঁরা দুজনই ভালো কবি।
আমি বললাম, স্যার আমিও শুনেছি সত্যজিৎ রায় ভালো ছবি বানান, ভালো লেখকও-- কিম্তু আমি আপনার কোনো ছবিও দেখিনি, আপনার কোনো লেখাও পড়িনি। এরকম কথা আপনার জন্য সম্মানজনক হবে কি?
সত্যজিৎ রায় আমার কথা শুনে খুব বিব্রত হয়েছিলেন। লজ্জায়, রাগে উনি ফুঁসছিলেন। কিন্তু আমার প্রশ্নের জুতসই কোনো উত্তর তিনি দিতে পারেন নি।
তখন সত্যজিৎকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন কবি শামসুর রাহমান। আমাকে তিনি প্রায় ধমক দিয়েই থামিয়ে দিয়েছিলেন।
আসলে সত্যজিতের সঙ্গে আমাদের সাক্ষাতের এপয়েন্টমেন্টা কবি শামসুর রাহমানের আগ্রহেই সম্ভব হয়েছিলো।
তাই কবি শামসুর রাহমানের কথা না মেনে উপায় কি?
সত্যজিৎ বেশ কিছুক্ষণ চুপ করেছিলেন।
বলতে ভুলে গেছি- এক ফাঁকে আমি রায় বাবুকে বলেছিলাম-- চলচ্চিত্র হলো একটা যৌথশিল্পপ্রয়াস। একজন কবির একক সৃষ্টির সাফল্যের সঙ্গে চলচ্চিত্রের সাফল্যকে আমরা যেন তুল্যমূল্য না করি কখনও।
১৯৮৫ সালের জানুয়ারী মাসে আমরা বাংলাদেশের কজন কবি বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য তাঁর কলকাতার বাসায় গিয়েছিলাম।
আমার সঙ্গে ছিলেন কবি শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, মহাদেব সাহা, রুবী রহমান, সৈয়দ আল ফারুক, চিত্রগ্রাহক নাসির আলী মামুনসহ আরও ক'জন। আমার সঙ্গে ছিলো আমার কন্যা মৃত্তিকা।
সত্যজিতের সঙ্গে আমার ও মৃত্তিকার এই ছবিটি নাসির আলী মামুন তুলেছিলেন।


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top