মা,বেশ্যা পাড়া একটি পবিত্র পাড়া,চুমু শহরের বুকে

মাধবীলতার ৪ কবিতা


প্রকাশিত:
২৯ মে ২০২১ ১৪:২০

আপডেট:
২০ জুন ২০২১ ১২:১৩

মা
 
পৃথিবী এক সোনালী ফসলি মাঠ
যে মাঠে সোনালী ফসল রূপে-
দিনগুলি খেলা করে তোমার,আমার।
এই সোনালী ফসলি মাঠে
তুমি দু'পেয়ে ইঁদুর দেখে ঘাবড়াবে না মা।
স্নিগ্ধতার পর্দা সরিয়ে
হিংস্রতার ফণা তোলো দু চোখে তোমার।
ফণার তেজে ইঁদুর এবার
ভস্ম হবে; মা ভস্ম হবে ইঁদুর এবার
লক্ষ কামনা ও বাসনা যার
সোনালী ফসল নষ্ট করবার,
ফণা তোলো যদি একটি বার হিংস্রতার
ও মা নয়নে তোমার।
দু'পেয়ে ইঁদুর হবে ছারখার,ভস্ম এবার!
মিলিয়ে নিও মা
 
বেশ্যা পাড়া একটি পবিত্র পাড়া
 
নিয়মিত দেখি-
শিল্পকলা থেকে ফেরার পথে
কিছু সংখ্যক রিক্সা সারিবদ্ধ থাকে
চালকও থাকে ধারে,কাকরাইল মোড়ে।
ভাত-ডাল কখনো'বা খিচুড়িতে-
রাতের খাবার তারা ওখানেই সারে।
 
কোন এক ঈশ্বর সৎ-বদ নতুবা বিনাদ্দেশ্যে
খাওয়ায় তাদের দিনের শেষে
বিভিন্ন শ্রেনীর রিক্সা চালক
ভিন্ন কারনে এখানে খেতে আসে।
কেউ আসে রাতের খাওয়ার টাকা বাচাতে,
হোটেলের খাওয়ারের তেল-মসলা এড়াতে,
কখনও সারারাত রিক্সা চালাবার শক্তি যোগাতে
জমা খরচের হিসেব মেলাতে
একাকিত্ব ঢেকে একসাথে খেতে
কেউবা আবার শখে।
 
তবে তারা আসে,হাসে..
শরীর চালাতে আহারের আমেজে
খানিক এ দৃশ্যের দৃষ্টান্তরে তখন-
এখানে বয় যতটা পবিত্র আনন্দধারা,
বেশ্যা পাড়া ঠিক ততটা পবিত্র পাড়া ।
 
চুমু
 
এই জগতে চুমু এক আশ্চর্য লণ্ঠন
এতে কাহারো শরীর করে তরঙ্গ ভঙ্গন
আবার কেইবা ঘুমাইয়া করে নাসিকা গর্জন
হারে এই জগতে চুমু এক আশ্চর্য লণ্ঠন ।
 
শহরের বুকে
 
শহরের বুকে কত গাড়ি ঘোড়া ঘোরে
এদিক ওদিক হেঁটে দৌড়ে মানুষও কত চড়ে
বসে আছি আমি এক টং দোকানের পরে।
ঘনাচ্ছে রাত চোখে পরে হঠাৎ
ওইতো ছেলেটি চুল পরিপাটি
দ্রুত পায়ে গ্যালো চলে ওইদিকে মোড় ধরে
"কোথায় তুমি গেলে?ক্যানোই বা গেলে
্যানোই বা এতো তাড়াহুড়ো করে?"
এতোসতো  করলাম প্রশ্ন
 ছেলেটি ফিরে এলে পরে
"আরে আপনি থামেন,
এতো কোয়াইরি ক্যানো করেন"
বলে চলে গ্যালো নিজ মনে. 
চা দোকানি মামা চায়ে চিনি নাড়ে
আর গোল্ডলিফ কাতানপ্রিন্ট টানে
সেসময়ে হাজির এসে সেই প্রিয় মম
যার জন্য অপেক্ষা হয় মধু সম..
"এসো এসো,এসে বসো
কি দারুণ লাগছে,বাপরে বাপ"
মামাকে বলি-
"মামা চিনি কমে চা দিওতো আরেক কাপ"
ঘুরে তাকিয়ে বলি-
"আজ নীল জামা পরলে যে বড়ো?
কিন্তু,
তুমিতো নীল জামা পরো না
না মানে, তারমানে এই নয়
কখনও পরতে পারবে না
কিংবা পরতে তোমার মানা"।
মামা চা দিলে,ব্যাগ নামিয়ে রেখে পাশে
চা খাওয়া হলো শুরু পাশাপাশি বসে
পাশে রাখা ব্যাগ খানা বেশ ভারি ভাব
চা খেতে খেতে তা নজরে আসে।
বলি তাকে-
"ব্যাগ এতো ভারী কেন্যানো? কি নিয়েছো এতো?
কোথাও যাবে?
নাকি কোনো কাজ  সেরে এলে?
"সবেতেই এতো কোয়াইরি ক্যানো করো?
প্লিজ সরো.."
এই বলে গ্যালো চলে
চা দোকানি বলে-
"মামা ঘটনা কি হইলো
দুইজনারে জিগাইলেন কতা
্যারা একই উত্তর কইলো..
বুঝলাম নাইলে হেই ছ্যামরায়
চিনেনা আপনেরে
কিন্তু আপনেরাতো বালোবাসেন
দুইজন দুইজনেরে
তাইলে হ্যাগো দুইজনার উত্তর
্যামনে হয় একই ?
তাকে বোঝাই
এই ধরো মামা চা থাকে যেমন
সিলেট জেলাতে
নাটোরের আখেতে তারা
কোনোরূপেই না মাতে
তখন তাদের সাওয়াল-জবাব
একান্তই তাদের হয়ে থাকে।
কিন্তু যখন তোমার দোকানে
চা বন্ধনে জড়ায়
চায়ে-আখে মিলে তখন
একাকার হয়ে যায়
দোকানি বলে-
আখতো দেখি চায়ের রঙে
একাকার হইয়া যায়
মাইনসে ক্যা তয় একাকার হইয়াও
আলদা থাইক্কা যায়?
এতো কথা জানিনা মামা
কথা বাড়ায়ো না আর বেশি
হইলেও হইতে পারে
এইটা তাগো চ্যাটের খুশি।
 


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top