শ্রীজাতর বিরুদ্ধে গল্প চুরির অভিযোগ


প্রকাশিত:
২ ডিসেম্বর ২০২১ ০৯:৩৬

আপডেট:
২৯ জানুয়ারী ২০২২ ০০:৩৪

শ্রীজাতর বিরুদ্ধে গল্প চুরির অভিযোগ! এ বছর শারদীয়া আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রখ্যাত লেখকের একটি গল্প প্রকাশিত হয়েছে। 'খরগোস ও মেরুবেহাগ' নামের ওই গল্পটি 'শংকর কবিচন্দ্র বা রামকৃষ্ণ রায় যে আখ্যান লেখেননি' শীর্ষক ছোটগল্প থেকে নেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলেছেন আর এক লেখক কণিষ্ক ভট্টাচার্য। অনুপ্রেরণা বা প্রভাব নয়। সরাসরি 'চৌর্যবৃত্তির' অভিযোগ তুলেছেন তিনি। বিষয়টি বেশ কিছুদিন আগে ঘটে থাকলেও, সম্প্রতি ফেসবুকে ন’ দফা অভিযোগ তুলেছেন কণিষ্ক।

লেখকের দাবি, শ্রীজাত এবং তাঁর গল্পের প্লট একই। বিষয়ের পাশাপাশি গল্পের চরিত্রও একই ধরনের। এমনকী চরিত্রের নামের ক্ষেত্রেও নাকি সাদৃশ্য ছিল। তাই দাবি করেছেন তিনি। কণিষ্কর কথায়, 'আমার গল্পের জাদুকরের নাম হর। যা শিবের নাম... শ্রীজাত জাদুকরের নাম দিয়েছেন মোহিনী, নারায়ণের প্রতারক রূপ।' এদিকে কণিষ্কর দাবি, তাঁর সৃষ্ট হ্যারি দ্য ম্যাজিশিয়ানের আদলেই শ্রীজাত গড়েছেন ব্রিগেঞ্জা দ্য ব্রিলিয়ান্টকে। কণিষ্কর গল্পের চরিত্র গুরুপত্নীর প্রেমে পড়েছিল। আর শ্রীজাতর চরিত্র গুরুকন্যার প্রেমে পড়ে। এছাড়াও কণিষ্কর গল্পে জাদুকরের বন্ধু ছিলেন এক সংগীত শিল্পী। যিনি মাচায় গান করেন। আর শ্রীজাতর গল্পে কণ্ঠী শিল্পীর বদলে সানাইবাদকের কাহিনী বলা হয়েছে। এমনটাই দাবি করেছিলেন কণিষ্ক। তাঁর কথায়, 'মাচা শিল্পী অনঙ্গ দাস অন্তরে নারী হলেও, শরীরে পুরুষ। যৌন পরিচয়ে সমপ্রেমী। শ্রীজাত চরিত্রের সমপ্রেমী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গিয়েছেন মঞ্জীর চরিত্রে।‘ তাঁর সংযোজন, ‘ম্যাজিক এবং সময় সম্পর্কে মন্তব্যেও দুর্দান্ত মিল।'

স্বাভাবিকভাবেই এই ধরনের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বাংলার সাহিত্য মহলে। এই সময় ডিজিটাল-এর তরফ থেকে কণিষ্ক ভট্টাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, '২০১৮ সালে বাতিঘর পত্রিকায় আমার একটি ছোট গল্প প্রকাশিত হয়েছিল। যার সঙ্গে ১৪২৮ বঙ্গাব্দের শারদীয়া আনন্দবাজার পত্রিকায় শ্রীজাতর একটি গল্পের কাকতালীয় মিল রয়েছে। আমি ডায়িং প্রফেশনকে বেছে নিয়েছিলাম গল্পের বিষয় হিসেবে। আমার এক চরিত্র মাচায় গান করেন। অপর চরিত্র জাদুকর। তার নাম হ্যারি দ্য ম্যাজিশিয়ন। আর শ্রীজাতর চরিত্রের নাম ব্রিগেঞ্জা দ্যা গ্রেট। এমনকী অপর চরিত্রের নামও একটি শিবের। অপরটি নারায়ণের। আমার একটি গল্পের চরিত্র আমার চেনা এক ব্যক্তিকে নিয়ে লেখা। সেই চরিত্রকে হুবহু কী ভাবে কল্পনা করা গেল! সবকিছুতে এতটা সাদৃশ্য বড় বেশি কাকতালীয়।'

এদিকে শ্রীজাতর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'এই বিষয়টি নিয়ে আমি এখনই কিছু বলব না। ব্যাপারটি নিয়ে উনি আনন্দবাজারে চিঠি লিখেছেন। আমিও উত্তর দেওয়া শুরু করেছি। সেখানেই পুরো বিষয়টা নিয়ে মন্তব্য করব।'

'অদ্ভুত অভিযোগ' শীর্ষক কলামে গোটা বিষয়টি খণ্ডন করেছেন শ্রীজাত। তাঁর কথায়, আমি স্পষ্টভাবেই এই অভিযোগের বিরোধিতা করছি এবং সম্পূর্ণভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করছি।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top