বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে দু ধরণের বক্তব্য

খালেদা জিয়া ভালো আছেন তো ?


প্রকাশিত:
৫ মে ২০২১ ১৮:৪৩

আপডেট:
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৭:১৫

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আছেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ‘জেডআরএফ’ উদ্যোগে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান।

চিকিৎসকেরা কী বলছেন, তা জানতে চাইলে ওই সূত্র জানায়, করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা সেরে ওঠার পর এ ধরনের কিছু জটিলতায় ভোগেন। তবে খালেদা জিয়ার বয়স হয়েছে। এ কারণে চিকিৎসকেরা বিষয়টি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। ফুসফুস থেকে যে তিন ব্যাগ ফ্লুইড বের করা হয়েছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। সেখানে অন্য কোনো রোগের জীবাণু পাওয়া যায়নি।

খালেদা জিয়া এখনো কোনো পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ হননি। তাহলে করোনা পরবর্তী জটিলতা কিভাবে? এই প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের এক সদস্য বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে করোনা আক্রান্ত কোনো রোগীর আক্রান্তের ১০ দিন পর যদি কোনো উপসর্গ না থাকে, তাহলে তার শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নেই বলেই ধরে নেওয়া যায়। তিনি বলেন, করোনার দুই ধরণের উপসর্গ আছে। করোনাকালীন উপসর্গ ও করোনা পরবর্তী উপসর্গ। খালেদা জিয়ার এখন যে ধরনের উপসর্গ তা করোনা পরবর্তী উপসর্গ।

বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে কোনো সমস্যা আছে কি

করোনা আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আবেদন করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

মঙ্গলবার রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের নাজনীন স্কুলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কর্মহীন অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া যে সাজা ভোগ করছিলেন পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা স্থগিত রেখে বাসায় থেকে চিকিৎসা নেওয়ার সুবিধা করে দিয়েছেন। আমরা যতটুক জানি তিনি এখন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার ইচ্ছা অনুযায়ী চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাকে চিকিৎসা দিচ্ছেন এ পর্যন্ত আমাদের জানা।

বিএনপি কি বলে ?

শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে চায় পরিবার। এ জন্য সোমবার রাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। জানা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার বলে বিএনপি মহাসচিবকে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে সরকারের অন্যান্যদের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তীতে জানানো হবে।

এ ব্যাপারে রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে টেলিফোন করা হলে তিনি তা ধরেননি। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার শরীফ মাহমুদ  বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাননীয় মন্ত্রীকে ফোন দিয়েছিলেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যগত বিষয়টি অবহিত করেছেন। তবে এ ব্যাপারে কোনো লিখিত আবেদন দেননি।

জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার বিষয়ে লিখিত কোনো আবেদন এখনও করা হয়নি ।

আদালত

করোনা আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার গেল সোমবার (৩ মে) সকালের দিকে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। এ অবস্থায় তার দল ও পরিবার চাচ্ছে তাকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে।রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা (অ্যাটর্নি জেনারেল) এএম আমিনউদ্দিন জানিয়েছেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিয়ে যেতে হলে আদালতের সম্মতি লাগবে।অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১(১) ধারা অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়েছে সরকার। এখন এটা (বিদেশ নিতে) করতে গেলে আদালতে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ওনার (খালেদা জিয়ার) চিকিৎসা কতটুকু প্রয়োজন। বাংলাদেশে কী আছে, না আছে, সবকিছু দেখে সরকার বিবেচনা করবে। সরকার যদি প্রয়োজন মনে করে, যদি আইন অনুযায়ী প্রয়োজন হয়, তাহলে সরকার আদালতে আসবে। কারণ এটা তো সরকারি আদেশ, সরকারই এটা ঠিক করবে।

আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বিদেশে যেতে বা বিদেশি চিকিৎসা নিতে পারবেন না- সরকারের দেওয়া সেই শর্তটি শিথিল করলে খালেদা জিয়ার বিদেশে যেতে আইনগত কোনো বাধা থাকে না। এটা নির্ভর করছে একেবারেই সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

শেষ অবস্থা

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস কিছুটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। পাশাপাশি শ্বাসকষ্টও আছে তার। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হঠাৎ করে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ওঠা-নামার কারণে তার সম্পর্কে স্থির কিছু বলা যাচ্ছে না। এ কারণে ডাক্তার বা দলের নেতারা কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না। তবে, আশা করা যায় বর্তমানে যে অবস্থায় আছে তাতে কয়েকদিনের মধ্যে তার ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণে এসে যাবে। মূলত বয়সের কারণে খালেদা জিয়া করোনা পরবর্তী জটিলতায় কাবু হয়ে পড়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেদা জিয়ার এক চিকিৎসক বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খবর নিয়মিত বিএনপি ও তার পরিবারকে জানানো হচ্ছে। কোন পরিস্থিতিতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে সেটা বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া নিয়মিত খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানকেও আপডেট দেওয়া হচ্ছে।খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, এ বিষয়ে চিকিৎসকরা ভালো বলতে পারবেন। আমি কিছু জানি না।আর খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসক ডা. এফ এম সিদ্দিকী এবং ড. আল মামুনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা রিসিভ করেননি।

গত ২৭ এপ্রিল রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে। গত সোমবার (৩ মে) সকালে খালেদা জিয়া শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে বিকেলে তাকে কেবিন থেকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। এখনও সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন আছেন। 



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top