শ্রেণিটি মূলত গড়ে উঠেছে ধর্মকে পেশা ও ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করে? তারা ‘ধর্মীয় সার্ভিস’ যেমন আরবি পড়ানো থেকে শুরু করে ‘ওয়াজ’ নামক বিনোদন বিক্রি করে।

বাংলাদেশে কি একটি ‘ধর্মজীবী শ্রেণির’ বিকাশ হয়েছে?


প্রকাশিত:
১২ এপ্রিল ২০২১ ১০:৫২

আপডেট:
১৭ মে ২০২১ ০৫:৫৯

বাংলাদেশে কি একটি ‘ধর্মজীবী শ্রেণির’ বিকাশ হয়েছে? যে শ্রেণিটি মূলত গড়ে উঠেছে ধর্মকে পেশা ও ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করে? তারা ‘ধর্মীয় সার্ভিস’ যেমন আরবি পড়ানো থেকে শুরু করে ‘ওয়াজ’ নামক বিনোদন বিক্রি করে। ইতোমধ্যেই তারা একটি অর্থনৈতিক শ্রেণি, তথা নিজের মধ্যে শ্রেণি (class in itself) হিসেবে বিকশিত হয়েছে। ‘ধর্মীয় সেবা’ বিক্রির মাধ্যমে তারা পুঁজিবাদী বাজার অর্থনীতির অংশ। রাজনৈতিক সমাবেশিকরনের মধ্য দিয়ে তাদের রাজনৈতিক অভিলাষ, ইসলামী বিপ্লব করার মধ্য দিয়ে, শরিয়া আইনের ধর্মরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মতাদর্শও গড়ে উঠেছে। এই দিক থেকে দেখলে, তারা নিজের জন্য শ্রেণি (class for itself) হয়ে উঠছে।

এই ধর্মজীবী শ্রেণিটি মূলত নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি বা পেটিবুর্জোয়া শ্রেণি থেকে বিবর্তিত হয়েছে, যারা সেক্যুলার শিক্ষার বদলে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক শিক্ষায় বেড়ে উঠেছে। মৌলিক উৎপাদনের সাথে তাদের সংযুক্তি নেই। যেমন নিজেরা কৃষক বা শ্রমিক নয়। তারা সামাজিক উপযোগিতার বিচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় নেই, যেমন ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারদের মতো পেশাজীবীরা আছেন। ফলে তারা আবির্ভূত হয়েছে একটি পরজীবী ‘লুম্পেন পেটিবুর্জোয়া’ শ্রেণি চরিত্রের বৈশিষ্ট্যে।

 

আমার এক সিনিয়র বন্ধু, ‘লুম্পেন’ শব্দটির বঙ্গানুবাদ করেছিলেন ‘লোচ্চা’ হিসেবে। ‘ওয়াজ’ ব্যবসায় যৌন সুড়সুড়িমূলক বক্তব্য, মাদ্রাসা মসজিদে শিশু বলাৎকার ও সম্প্রতি আল্লামা মুমিনুল হকের তৃতীয় রক্ষিতা ‘কাপাসিয়ার ভাবি’ আবিষ্কারের পর, আমার বন্ধুর লুম্পেন পেটিবুর্জোয়াকে ‘লোচ্চা পাতিবুর্জোয়া’ অভিধা যুৎসই অনুবাদ বলেই মনে হচ্ছে। আল্লামা মামুনুলরা একটি নবউত্থিত পরজীবী শ্রেণির প্রতিনিধি। এই শ্রেণিটির নাম, ‘লোচ্চা ধর্মজীবী’ শ্রেণি। 



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top