তার স্ত্রীর সংখ্যা নিয়ে রয়েছে রহস্য

কে এই মামুনুল


প্রকাশিত:
১৯ এপ্রিল ২০২১ ১৩:১৪

আপডেট:
১৭ মে ২০২১ ০৭:৩০

বর্তমানে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্বে আছেন মামুনুল হক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, ঢাকার শায়খুল হাদিস, বাবরি মসজিদ বাংলাদেশ, মাহাদুত তারবিয়্যাতুল ইসলামিয়া ও তারবিয়্যাতুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা, মাসিক রহমানী পয়গামের সম্পাদক, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি ও বায়তুল মামুর জামে মসজিদের খতিব। মামুনুল হক একজন ইসলামি পণ্ডিত, রাজনীতিবিদ, ইসলামি বক্তা, লেখক ও অধ্যাপক হিসেবেও পরিচিত। মামুনুল হক এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।

তিনি পাঁচ বছর সিরাজগঞ্জ জামিয়া নিজামিয়া বেথুয়া মাদ্রাসা এবং দুই বছর মিরপুর জামিউল উলুমে শিক্ষকতা করেন। তারপর ২০০০ সাল থেকে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, ঢাকার শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।

সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশে সফরকে কেন্দ্র করে হেফাজত ইসলাম যে তাণ্ডব চালিয়েছে তাতে নেতৃত্ব দেন মামুনুল হক। ওই তাণ্ডবে দেশজুড়ে ১৭ জন নিহতের ঘটনা ঘটে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে আসে রিসোর্টে নারী কেলেঙ্কারীর ঘটনা।

এ ঘটনার পর একের পর এক অপকর্ম ফাঁস হতে শুরু করে তার বিরুদ্ধে। একাধিক নারী ঘটিত ঘটনা, ফোনালাপ এবং তার তৃতীয় স্ত্রীরও খোঁজ পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। ফলে এসব বিষয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েন মামুনুল হক। বাড়তে থাকে তার ওপর গোয়েন্দা নজরদারি।

এর আগে ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে অনুষ্ঠিত হেফাজত আন্দোলনে নেতৃত্বের জন্য ১২ মে মামুনুল হক কে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের দু’দিন আগে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠে।

২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে “আপত্তিকর বক্তা” হিসেবে চিহ্নিত করা হয় মামুনুল হক কে। তিনি ইসলামের দৃষ্টিতে ভাস্কর্য ও মূর্তিকে এক হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং এগুলো নির্মাণ করার অনুমতি ইসলামে নেই বলে মন্তব্য করেন। আইনগতভাবে, নৈতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সামর্থ্য থাকলে শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমানের ভাস্কর্যসহ সব ভাস্কর্যই মুসলমানদের জনপদ থেকে অপসারণ করার উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।

তৃতীয় বিয়ের কথা স্বীকার, দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিচয়দানকারী নারী তবে কে ? 

জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে লিপি নামে এক নারীকে নিজের স্ত্রী দাবি করেছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হক। তবে লিপিকে কবে-কোথায় বিয়ে করছেন বিষয়ে তিনি পুলিশকে কোনো তথ্য দেননি, দেখাতে পারেননি সন্তোষজনক কোনো প্রমাণ। এছাড়াও তৃতীয় স্ত্রী এখন কোথায় আছেন, সে বিষয়েও পুলিশকে সুনির্দিষ্ট কিছুই জানাননি হেফাজতের এই নেতা।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনারের কার্যালয়ে তৃতীয় বিয়ে নিয়ে মামুনুলকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে রোববার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মামুনুলকে গ্রেফতার করা হয়।

মামুনুল হকের তৃতীয় বিয়ে নিয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, নিজের বোনকে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হকের স্ত্রী দাবি করে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় ১১ এপ্রিল একটি সাধারণ ডাইরি (জিডি) করেছেন মো. শাহজাহান নামে এক ব্যক্তি। তার বোন জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে লিপি নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়। বিষয়ে মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি বলেনআমি তাকে বিয়ে করেছি। সে আমার তৃতীয় স্ত্রী।

হারুন-অর-রশিদ আরও বলেন, পর পর তিনটি বিয়ে। সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টে যে মেয়েটিকে নিয়ে গেছেন তাকে নিজের বিয়ে করা স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। কিন্তু আপনার স্ত্রীকে (প্রথম স্ত্রী) আপনি বলেছেন ওই নারী অন্যজনের স্ত্রী। এসব কথা কেনো বললেন, বিষয়ে আমরা মামুনুলকে প্রশ্ন করি। কিন্তু এসব বিষয়ে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের বিষিয়ে ডিসি তেজগাঁও আরও বলেন, শেষ ধাপে আমরা জিজ্ঞাসা করি, শাহজাহান নামে এক ব্যক্তি জিডি করেছেন যে তার বোনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তার বোনকে আপনি বিয়ে করেছেন। বিষয়ে তিনি (মামুনুল হক) কেনো সম্পূর্ণ তথ্য জানেন না। তাকে (মামুনুল হক) আমরা জিজ্ঞাসা করি বিয়ে তো বৈধ বিষয়, তাহলে আপনার শালাকে (শাহজাহান) বিষয়ে কেনো জানাননি। এসব প্রশ্নেরও তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি। মামুনুল শুধু বলেছেনআমি তাকে বিয়ে করেছি।

এর আগে নিজের বোনকে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হকের স্ত্রী দাবি করে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় মো. শাহজাহান সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন। তার বোন জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে লিপি নিখোঁজ রয়েছেন এই মর্মে গত (১১ এপ্রিল) মোহাম্মদপুর থানায় জিডিটি করা হয়। তিনি জিডিতে উল্লেখ্য করেন, জান্নাতুল ফেরদৌসের স্বামী হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হক।

এদিকে এপ্রিলের সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টে জান্নাত আরা জান্নাত ওরফে ঝরনা নামে এক নারীসহ অবরুদ্ধ হন মামুনুল হক। সে নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করলেও বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

জানা গেছে রিসোর্টকাণ্ডের পর মামুনুল হকের বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন প্রথম স্ত্রী আমিনা তাইয়্যেবা। তিনি এখনও মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিংয়ে এক নম্বর সড়কে অবস্থিত মামুনুল হকের বাড়িতে আসেননি। তিনি বর্তমানে তার বাবার বাড়িতে আছেন। তবে মামুনুল হকের সাথে গ্রেপ্তার হওয়া সেই নারীর প্রকৃত পরিচয় পাওয়া গেলে উদ্ভূত পরিস্থিতির নিয়ে সৃষ্ট প্রশ্নের যবনিকা ঘটত। আদৌ কি সেই নারী তার ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ , নাকি অন্যকিছু ? আর দ্বিতীয় স্ত্রী হলেই বা কেন চলমান অশনি সময়ে হেফাজতের অন্যতম এই শীর্ষ নেতা রিসোর্টে উঠবেন?  এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ সব নিয়ে শেষ পর্যন্ত সন্দেহের ঘুরপাকে সাধারণ মানুষ।

 

 



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top