দারুণ জয়ে আশা জাগালো বাংলাদেশ


প্রকাশিত:
২০ অক্টোবর ২০২১ ০৭:৪৭

আপডেট:
২৯ নভেম্বর ২০২১ ১০:৫৫

ওমানের বিপক্ষে দারুণ জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার টুয়েলভে খেলার আশা জাগালো বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) বাছাই পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে টাইগাররা স্বাগতিক ওমানের বিপক্ষে ২০ ওভারে ১৫৩ রান সংগ্রহ করেছে। ওমান ব্যাটে জবাব দিতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২৭ রানে থেমে যায়। এতে ২৬ রানের দারুণ জয় পায় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দল।

১৫৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ওমান ভালো শুরু করে। খেলার মাঝপথে সেই ধারা আর অব্যাহত থাকেনি। ওমানের হয়ে ওপেনার যতিন্দর সিং সর্বোচ্চ ৩৩ বলে ৪৪ রান করেন। এরপরের অবস্থানে রয়েছেন কাশাপ প্রজাপ ১৮ বলে ২১ রান, মোহাম্মদ নাদিম ১৪ এবং ওমান অধিনায়ক জিসান ১২ রান। বাকিরা কেউ দুই অংকের ঘরে প্রবেশ করতে পারেননি।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান, সাকিব আল হাসান তিন উইকেট, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ও মাহেদী হাসান একটি করে উইকেট শিকার করেছেন।

বাংলাদেশ দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৪ রান করেছেন ওপেনার মোহাম্মদ নাইম। মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) ওমানের আল আমেরাতে ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। সুপার টুয়েলভে খেলতে হলে এ ম্যাচে জয় ছাড়া বাংলাদেশের সামনে বিকল্প নেই। বাঁচা-মরার ম্যাচে ওপেনার সৌম্য সরকারে জায়গায় মোহাম্মদ নাইমকে নামানো হয়। নাইমের সঙ্গে ইনিংসের শুরুটা জমাতে পারেননি ওপেনার লিটন দাস। ৬ রান করা লিটন তৃতীয় ওভারে দলীয় ১১ রানে বিদায় নেন।

মাহেদি হাসান পিঞ্চ হিটার হিসেবে নেমেছিলেন। ৪ বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন তিনিও। এমন অবস্থায় ২১ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে মহা চাপে বাংলাদেশ। সেই চাপকে দূর করার গুরু দায়িত্ব কাঁধে চাপে নাইম ও চার নম্বরে নামা সাকিব আল হাসানের। সাকিব ৪ মেরে রানের খাতা খুলেন। সপ্তম ওভারে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান নাইম। একইসঙ্গে সেটি ছক্কায় পরিণত হয়। নাইম অষ্টম ওভারে আবারও জীবন পান। নাইম-সাকিবের ব্যাটিংয়ে ১০ ওভার শেষে দুই উইকেটে ৬৩ রান পায় টিম বাংলাদেশ।

ক্রিজে টিকে থাকতে গিয়ে প্রথম ১০ ওভারে রানের গতি কমই ছিল বাংলাদেশের। ১২তম ওভারে মারমুখী রুপে দেখা যায় নাইম-সাাকিবকে। ১৭ রান তুলেন তারা। এরমধ্যে সাকিবের দুটি চার ও নাইমের ১টি ছক্কা ছিল। ১৪তম ওভারে বাংলাদেশের স্কোর তিন অংকে পৌঁছায়। দুর্ভাগ্য এ ওভারেই নাইম-সাকিবের জুটিতে ভাঙন ধরে।

পয়েন্ট থেকে ওমানের আকিব ইলিয়াসের সরাসরি থ্রোতে রান আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন ২৯ বলে ৬টি চারে ৪২ রান করা সাকিব। ৫৩ বলে ৮০ রানের জুটি গড়েন নাইম-সাকিব।

সাকিবের বিদায়ের পরের ওভারে বাউন্ডারি দিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ২৩তম ম্যাচে তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান নাইম।

দলীয় ১০১ রানে সাকিবের বিদায়ের পর দ্রুতই ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলীয় ১২২ রানের মধ্যে আউট হন নুরুল হাসান, আফিফ হোসেন ও নাইম। নুরুল ৩ ও আফিফ ১ রান করেন। এক প্রান্ত আগলে রাখা নাইম ৬৪ রানে থামেন। ৫০ বলে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস সাজান নাইম।

নাইম যখন ফিরেন, তখন ইনিংসে ২০ বল বাকী ছিলো। এ অবস্থায় বাংলাদেশের স্কোর কত দূর নিয়ে যেতে পারেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ ও মুশফিকুর রহিম। সেটিই দেখার ছিলো। মুশফিককে নিয়ে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন মাহমুদুল্লাহ। ৯ বলে ১৬ রান যোগ করে এ জুটি।

তবে ১৯তম ওভারের প্রথম দুই বলে বাংলাদেশ শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন ওমানের পেসার ফাইয়াজ বাট। মুশফিক-মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনকে তুলে নেন তিনি। মুশফিক ৬ রান করতে পারলেও সাইফুদ্দিন খাতাই খুলতে পারেননি।

১৯তম ওভারের শেষ বলে বাউন্ডারি মেরে দলের স্কোর দেড়শর কাছে নিয়ে যান মাহমুুদুল্লাহ। তাই আশা করা হয়েছিলো শেষ ওভারে মাহমুদুল্লাহ ঝড় দেখা যাবে। কিন্তু ওই ওভারের তৃতীয় বলে আউট হন অধিনায়ক। ১টি করে চার-ছক্কায় ১০ বলে ১৭ রান করেন তিনি। আর শেষ ওভারের শেষ বলে মুস্তাফিজুরের আউটে, ১৫৩ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ।

মুস্তাফিজ ২ রান করেন। ১ রানে অপরাজিত থাকেন তাসকিন। ওমানের বিলাল-ফায়াজ ৩টি করে উইকেট নেন।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top