লড়াই করে হারলো বাংলাদেশ


প্রকাশিত:
১৯ নভেম্বর ২০২১ ২৩:১৪

আপডেট:
২৯ নভেম্বর ২০২১ ১১:৫৪

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হেরে গেল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ১২৭ রানের ছোট পুঁজি নিয়েও জয়ের জন্য ম্যাচের শেষ ৩ ওভারে পাকিস্তানের সামনে ৩২ রানের সমীকরণ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। কিন্তু ১৮ ও ১৯তম ওভারে যাচ্ছেতাই বোলিং করে বাংলাদেশকে হারের মুখে ঠেলে দেন দলের দুই বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম।

জয়ের জন্য ১২৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে এক পর্যায়ে ৯৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। এরপর সপ্তম উইকেটে ১৫ বলে অবিচ্ছিন্ন ৩৬ রান তুলে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ৪ উইকেটে জয় এনে দেন শাদাব খান ও মোহাম্মদ নাওয়াজ। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল পাকিস্তান।

ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৭ রানের মামুলি সংগ্রহ বাংলাদেশ। জবাবে ১৯ দশমিক ২ ওভারে ৬ উইকেটে ১৩২ রান তুলে জয়ের স্বাদ নেয় পাকিস্তান।

সদ্য শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপে ব্যর্থতাকে সাথে নিয়ে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। এ ম্যাচ দিয়ে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় সাইফ হাসানের। মোহাম্মদ নাইমের সাথে ইনিংস উদ্বোধন করেন দেশের ৭২তম টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা সাইফ।

প্রথম ওভারে মাত্র ২ রান তুলতে পারেন নাইম ও সাইফ। দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই বিদায় নেন নাইম। পাকিস্তানের পেসার হাসান আলির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়ার আগে। ৩ বলে ১ রান করেন নাইম।

নাইমের পথ ধরে তৃতীয় ওভারে ফিরেন অভিষিক্ত সাইফও। পাকিস্তানের আরেক পেসার মোহাম্মদ ওয়াসিমের বলে প্রথম স্লিপে ফখর জামানকে ক্যাচ দেন সাইফ। ৮ বল খেলে মাত্র ১ রান করেন সাইফ। ১০ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।
তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত, বাংলাদেশের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেন। পঞ্চম ওভারে ওয়াসিমকে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন টেস্ট মেজাজে খেলে ১৪ বলে ৭ রান করা শান্ত।

১৫ রানে ৩ উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে উঠার পথ খুঁজছিলো বাংলাদেশ। দলকে সেই পথে নিয়ে যান আফিফ হোসেন ও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। চতুর্থ উইকেটে ২৬ বলে ২৫ রানের জুটি গড়েন তারা। মাহমুদুল্লাহকে তুলে পাকিস্তানকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন বাঁ-হাতি স্পিনার মোহাম্মদ নওয়াজ। ১১ বলে ৬ রান করেন মাহমুদুল্লাহ।

অধিনায়ককে হারালেও, রানের চাকা সচল রেখেছিলেন আফিফ। রিভিউ নিয়ে জীবন পাওয়া আফিফ, ১১তম ওভারে নাওয়াজকে পরপর দু’টি ছক্কাও মারেন। তবে ১৩তম ওভারের পঞ্চম বলে স্পিনার শাদাবের গুগলি বুঝতে পারেননি আফিফ। স্টাম্প আউট হওয়ার আগে ৩৪ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় ৩৬ রান করেন আফিফ।

আফিফের আউটের পর ১৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ৬৭ রান। রানের গতি বাড়াতে ১৫তম ওভারে ১৩ রান তুলেন উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান ও মাহেদি। নুরুল ছক্কা ও মাহেদি চার মারেন। পরের ওভারে আরও ছক্কা আসে নুরুলের ব্যাট থেকে। ১৭তম ওভারে হাসানের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে থামেন নুরুল। ২২ বলে ২৮ রান করেন তিনি। অন্যপ্রান্তে মারমুখী মেজা অব্যাহত রেখেছিলেন মাহেদি। হাসানের করা ১৯তম ওভারের প্রথম বলে ও শেষ ওভারে রউফের করা প্রথম বলে ছক্কা মারেন মাহেদি।

মাহেদির সাথে শেষ ওভারে ছক্কা মারার তালিকায় নাম তুলেন পেসার তাসকিন আহমেদও। ইনিংসের শেষ বলে স্কয়ার লেগ দিয়ে ছক্কা মারেন তাসকিন। শেষ ওভারে ১৫ রান পেয়ে যায় বাংলাদেশ। ফলে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৭ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। ২০ বলে ১টি চার ও ২টি ছক্কায় অপরাজিত ৩০ রান করেন মাহেদি। ৩ বলে অপরাজিত ৮ রান করেন তাসকিন। শেষ ৬ ওভারে ৬০ রান তুলে বাংলাদেশ। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়া পাকিস্তানের হাসান ২২ রানে ৩টি ও ওয়াসিম ২৪ রানে ২টি উইকেট নেন।

১২৮ রানের সহজ লক্ষ্যে সাবধানী শুরু করেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও অধিনায়ক বাবর আজমের। প্রথম ১৬ বলে ১৬ রান তুলেন তারা। তবে তৃতীয় ওভারের চতুর্থ ও নিজের প্রথম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। এ বছরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান করা রিজওয়ানকে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন ফিজ। ১১ রান করেন রিজওয়ান।
মুস্তাফিজের পর সাফল্য পান পেসার তাসকিন। পরের ওভারের শেষ বলে বাবরকে বোল্ড করেন তাসকিন। ১০ বলে ৭ রান করে আউট হন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান করা বাবর।

২২ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে পাকিস্তান যখন ধুঁকছে, তখন প্রতিপক্ষের উপর চাপ বাড়ান স্পিনার মাহেদি। চার নম্বরে নামা হায়দার আলিকে লেগ বিফোর ফাঁদে ফেলেন মাহেদি। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি হায়দার। খালি হাতেই ফিরতে হয় তাকে।

তিন বোলার মুস্তাফিজ-তাসকিন-মাহেদির সাফল্যতে উজ্জীবিত হয়ে উঠেন উইকেটরক্ষক নুরুল। একক কীর্তিতে উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে দলকে বড়-সড় সাফল্য এনে দেন নুরুল। ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলটি বাউন্সার করেছিলেন মুস্তাফিজ। সেটি খেলতে পারেননি অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক। বল গিয়ে জমা পড়ে নুরুলের হাতে। মালিককে ক্রিজের বাইরে দেখে, থ্রোতে মালিকের স্টাম্প ভাঙ্গেন নুরুল। নুরুলের বুদ্ধিদীপ্ত চিন্তায়, রান আউটের ফাঁদে পড়েন মালিক। খাতি হাতে ফিরতে হয় মালিককেও। এতে ৬ ওভার শেষে ২৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় পড়ে যায় পাকিস্তান।

খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুলেন ফখর জামান ও খুশদিল শাহ। বাংলাদেশ বোলারদের উপর আধিপত্য বিস্তার করে ৫০ বলে ৫৬ রানের জুটি গড়েন তারা। এতে লড়াইয়ে ফিরে পাকিস্তান। উইকেটে জমে যাওয়া জামান ও খুশদিলের জুটি ভাঙ্গতে মুখিয়ে ছিলো বাংলাদেশের বোলাররা। ১৫তম ওভারে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক-থ্রু এনে দেন তাসকিন। নিজের শেষ ওভারে ৩৬ বলে ৩৪ রান করা জামানকে আউট করেন তিনি।

এরপর ক্রিজে খুশদিনের সঙ্গী হন শাদাব। রানের গতি ধরে রেখেছিলেন খুশদিল। তবে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিলো উইকেট। সেই আশা পূরণ করেন বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল। ১৭তম ওভারের পঞ্চম বলে সেট ব্যাটার খুশদিলের বিদায় নিশ্চিত করেন শরিফুল। ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৪ রান করেন খুশদিল।

১৭ ওভার শেষে ৬ উইকেটে পাকিস্তানের রান ৯৬। শেষ ৩ ওভারে ৩২ রানের দরকার পড়ে সফরকারীদের। ম্যাচ জয়ের ভালো সুযোগও ছিলো বাংলাদেশের।

কিন্তু ১৮ ও ১৯তম ওভারে বাংলাদেশের স্বপ্ন চুরমার করে দেন শাদাব ও নাওয়াজ। মুস্তাফিজের করা ১৮তম ওভার এবং শরিফুলের করা ১৯তম ওভার থেকে ১৫ রান করে, মোট ৩০ রান তুলে ম্যাচ হাতে মুঠোয় নিয়ে নেন শাদাব ও নাওয়াজ। আর শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে ছক্কা মেরে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন তারা। সপ্তম উইকেটে ১৫ বলে অবিচ্ছিন্ন ৩৬ রান তুলেন শাদাব ও নাওয়াজ।

শাদাব ১০ বলে অপরাজিত ২১ ও নাওয়াজ ৮ বলে অপরাজিত ১৮ রান করেন। দু’জনই ১টি করে চার ও ২টি করে ছক্কা মারেন। বাংলাদেশের তাসকিন ২টি, মুস্তাফিজ-মাহেদি ও শরিফুল ১টি করে উইকেট নেন। আগামীকালই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top